kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

ইসির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসির অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি ফখরুলের

খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে গতকাল রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সমাবেশ করে বিএনপি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের আজ্ঞা পালনে ক্রীতদাসের চরিত্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। সরকারকে কিছু বলতে হয় না, তারাই আগেভাগে বলে দেয়—খুব ভালো নির্বাচন হয়েছে, সুষ্ঠু হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সব জয়লাভ করেছে। এই নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’

সারা দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল বুধবার আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা সিটি করপোরেশন সুপারমার্কেটের সামনের সড়কে ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে গতকাল সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন। দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরুর আগেই পুরো সড়ক লোকারণ্য হয়ে পড়ে। দুটি ট্রাকের ওপর তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কয়েক দিন আগে চিফ জাস্টিস বলেছেন, ‘লেখালেখি করা ভালো, কিন্তু রাষ্ট্রের ইমেজ নষ্ট হয়—এটা আমরা মেনে নেব না।’ আমাদের অবশ্যই জানাতে হবে যে কোন কাজে রাষ্ট্রের ইমেজ নষ্ট হয় আর কোনটায় হয় না।”

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকার এতটাই দুর্বল যে নিজেদের রক্ষা করতে নতুন নতুন আইন করতে হয়। এই যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে। মোবাইল, ফেসবুকে কে কোথায় কী বলে তা নজরদারির জন্য যন্ত্র নিয়ে এসেছে ইসরায়েল থেকে। অথচ সে দেশের সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।’

ফখরুল বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ঢাকা সফরকালে সীমান্ত হত্যা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানাই। আমরাও চাই কানেক্টিভিটি হোক, বাণিজ্য বাড়ুক। কিন্তু আমরা কিছুই পাব না, তা হতে পারে না।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সরকার ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় টিকে আছে; ষড়যন্ত্র করেই টিকে থাকার চেষ্টা করছে। এই অথর্ব নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, এসব খুন, লুট কোনো কিছু থেকেই মাফ পাবেন না। আওয়ামী লীগের বিচার হওয়ার আগে এই নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশে নিয়মিত ভোট কর্মসূচির নামে তামাশা দেখছি। তবে তারা যতই ভোট চুরি করুক না কেন জনতা ধানের শীষের সঙ্গে আছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে।’

ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমরা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে মেনে নেব না। এর পতন ঘটানোর আন্দোলনে প্রথম বুলেটটা নেওয়ার জন্য বুক পেতে দেব।’

মহানগর উত্তর বিএনপির মুন্সী বজলুল বাসিত আনজু ও এ এফ এম আব্দুল আলিম নকির পরিচালনায় সমাবেশে সিটি করপোরেশনগুলোতে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থীদের মধ্যে বরিশালের মজিবর রহমান সরোয়ার, খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু, চট্টগ্রামের ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বরকতউল্লা বুলু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা