kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ কার্তিক ১৪২৮। ২৬ অক্টোবর ২০২১। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আসছে দুই তহবিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সোনার হরিণ চাকরির পেছনে না ছুটে যাঁরা নিজ উদ্যোগে কিছু করতে চাইছেন, নতুন কোনো পরিকল্পনায় পণ্যের উন্নয়নের কথা ভাবছেন, অথচ প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে কাজটি করতে পারছেন না—তাঁদের জন্য বড় সুখবর আসছে। নতুন উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে জামানতবিহীন ঋণ দিতে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ নামে দুটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো পুনরর্থায়ন তহবিল, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে গঠন করা হবে। অন্যটি গঠন করা হবে বাণ্যিজিক ব্যাংকগুলোর বার্ষিক মুনাফার একটি অংশ দিয়ে। উভয় তহবিল থেকেই ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন নতুন উদ্যোক্তারা। সম্প্রতি এসংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রগ্রামস বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় খসড়া নীতিমালাটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তহবিল গঠনের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসার শুরুতে পর্যাপ্ত মূলধন কিংবা আমানতযোগ্য সম্পদের অভাব একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এমন প্রেক্ষাপটে সহজলভ্য ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্বকর্মসংস্থান উৎসাহিত করতে এ ধরনের তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ বা প্রকল্পের অনুকূলে ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য না হওয়ায় অনেক সময় স্টার্ট-আপ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। বিশ্বের অনেক দেশেই স্টার্ট-আপ উদ্যোগ যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতায় সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশেও সম্ভাবনাময় স্টার্ট-আপ উদ্যোগ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কর্মসংস্থানসহ দেশের অর্থনীতির অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গঠিত স্টার্ট-আপ তহবিল : বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এ তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো হবে। এই তহবিলের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর, যা আবর্তনযোগ্য।

তফসিলি ব্যাংকগুলো কর্তৃক স্টার্ট-আপ তহবিল : তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক নিট মুনাফা থেকে এক শতাংশ অর্থ স্থানান্তর করে নিজস্ব ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ গঠন করবে।  জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে কয়েক বছর ধরে ৯ হাজার কোটি থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা নিট মুনাফা হচ্ছে। এতে প্রতিবছর গড়ে ১০০ কোটি টাকার স্টার্ট-আপ তহবিল পাওয়া সম্ভব হবে। এভাবে পাঁচ বছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিলের আকার দাঁড়াবে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার : গ্রাহক পর্যায়ে এই তহবিলের সুদের হার হবে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। তবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই তহবিল পাবে ০.৫০ শতাংশ সুদে। এই তহবিলের আওতায় ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের অর্থ বা এর কোনো অংশ সদ্ব্যবহার হয়নি মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতীয়মান হলে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সেই পরিমাণ অর্থের ওপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত দুই শতাংশ হারে সুদসহ এককালীন আদায় করতে পারবে।

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ প্রাপ্তির যোগ্যতা : প্রস্তাবিত উদ্যোগের আগে অন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাবসায়িক কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং ব্যাবসায়িক কাজে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ গ্রহণ করেননি—এমন ব্যক্তি ঋণ পাবেন। নতুন উদ্যোক্তাকে সরকারি কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত বেসরকারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসা পরিচালনা, বাজারজাতকরণ ইত্যাদি বিষয়ে অথবা অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে অন্তত ছয় মাসের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সার্টিফিকেট থাকতে হবে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক কারিগরি শিক্ষা না থাকলে উদ্যোক্তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও নতুন উদ্যোগ পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে।

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সীমা : এ তহবিলের আওতায় গ্রাহকরা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকার ঋণ পাবেন। তবে অনুমোদিত ঋণ এককালীন বিতরণ করা যাবে না। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়ে তিন কিস্তিতে বিতরণ করতে হবে। একই গ্রাহক একাধিক প্রকল্প বা একাধিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন না। একজন গ্রাহককে এ তহবিল থেকে একবারই ঋণ দেওয়া যাবে।

কেবল ব্যক্তিগত গ্যারান্টিতে মিলবে ঋণ : এই ঋণ হবে সম্পূর্ণ জামানতবিহীন। তবে ব্যাংক কর্তৃক স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তা থেকে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণ করা যাবে। ডিগ্রিধারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মূল সনদ জামানত হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ : গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক এবং ‘স্টার্ট-আপ উদ্যোগ’-এর ধরন বিবেচনায় গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করা যাবে। তবে তা এক বছরের বেশি হবে না। ত্রৈমাসিক বা ষান্মাসিক ভিত্তিতে কিস্তি পরিশোধের সুযোগ পাবেন গ্রাহক।

পুনরর্থায়ন গ্রহণ ও পরিশোধ পদ্ধতি : সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিল থেকে পুনরর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। পুনরর্থায়ন গ্রহণে আগ্রহী ব্যাংককে এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রগ্রামস ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পুনরর্থায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড দেবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে সুদসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে আদায় করা হবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ করা ঋণ আদায়ের সব দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকবে।



সাতদিনের সেরা