kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

একে একে মারা গেলেন অগ্নিদগ্ধ ছয় জেলে

ট্রলারে রহস্যজনক বিস্ফোরণ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একে একে মারা গেলেন অগ্নিদগ্ধ ছয় জেলে

প্রতীকী ছবি

বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার এলাকায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মাছ ধরার একটি ট্রলারে রহস্যজনক বিস্ফোরণে ২১ জেলে অগ্নিদগ্ধ হন। এর মধ্যে অতিরিক্ত দগ্ধ ১২ জেলের ছয়জন মারা গেছেন। অন্য ছয়জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এসব জেলের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ও চররমিজ ইউনিয়নে। একে একে দগ্ধ জেলেদের মৃত্যুতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার এলাকায় মাছ ধরার সময় ট্রলারে ওই রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রলারে থাকা ২১ জেলের সবাই অগ্নিদগ্ধ হন। বর্তমানে গুরুতর দগ্ধ ছয়জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এঁদের শরীরের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

মারা যাওয়া ছয় জেলে হলেন রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের বেলাল হোসেন (২৮), মো. মেহেরাজ (২৬), চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. মিলন (৩০), চররমিজ ইউনিয়নের চরগোসাই গ্রামের আবুল কাশেম (৫৫) ও মো. রিপন মাঝি (৩৮) এবং গতকাল বুধবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মো. মেহেরাজ উদ্দিন।

চিকিৎসাধীন আছেন চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, মো. সাহাবউদ্দিন, আবু জাহের, মো. মিরাজ উদ্দিন ও মো. মিরাজ। আর চরলক্ষ্মী গ্রামের আবদুর জাহেরের ছেলে মেহেরাজ আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছেন।

বিস্ফোরণে আহত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসা চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. শরীফ জানান, মেঘনায় মাছ ধরা নিষেধ। এ জন্য তারা ২১ জন জেলে কক্সবাজারে যান। সেখানে সোহেল কোম্পানী নামের এক ব্যক্তির এফবি ওশিন ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁরা সাগরে জাল ফেলেন। মধ্যরাতে ট্রলারে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। পরে আরো দুটি শব্দ হয়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জেলেদের কয়েকজন সাগরে পড়ে যান। কয়েকজন কেবিনে আটকা পড়েন। ট্রলারে থাকা একজন সাগরে পড়ে যাওয়া জেলেদের রশি ফেলে উদ্ধার করেন। ট্রলারে যাঁরা ছিলেন তাঁদের সবাই দগ্ধ হন। প্রায় এক ঘণ্টা পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার তাঁদের উদ্ধার করে। পরে তাঁরা ট্রলার মালিক সোহেলকে ফোন করে দুর্ঘটনার খবর জানান। তখন তিনি স্পিডবোট পাঠিয়ে তাঁদের কক্সবাজার নিয়ে আসেন।



সাতদিনের সেরা