kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ইউনিসেফের তথ্য

বিশ্বে নতুন করে বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে এক কোটি মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালীন প্রভাবসহ নানা কারণে চলতি দশক শেষ হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত এক কোটি মেয়ে বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। তারা বলছে, বিশ্বজুড়ে করোনা প্রাদুর্ভাবের আগেও ১০ কোটি মেয়ে বাল্যবিয়ের ঝুঁকিতে ছিল। করোনার কারণে এখন এর সঙ্গে অতিরিক্ত আরো এক কোটি যোগ হয়েছে।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রকাশিত ‘কভিড-১৯ : বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে অগ্রগতির জন্য হুমকি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে ইউনিসেফ। উদ্ভূত পরিস্থিতি বাল্যবিয়ে রোধে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বর্তমানে জীবিত প্রায় ৬৫ কোটি নারীর বিয়ে হয়েছিল তাঁদের শৈশবে, যার প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, ভারত ও নাইজেরিয়ায়। তবে বাল্যবিয়ে রোধে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশ কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ইউনিসেফ বলছে, গত ১০ বছরে বিশ্বব্যাপী বাল্যবিয়ের শিকার মেয়েদের অনুপাত ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা প্রায় আড়াই কোটি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের সমতুল্য। আগে প্রতি চারটি মেয়েশিশুর মধ্যে একজন বাল্যবিয়ের শিকার হতো। এখন এ হার পাঁচজনের মধ্যে একজনে নেমেছে। এ অর্জনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে করোনা মহামারি।

করোনা মহামারির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে ইউনিসেফ। এ ছাড়া অর্থনৈতিক চাপ, সেবা বিঘ্নিত হওয়া, গর্ভাবস্থা এবং মা-বাবার মৃত্যুজনিত ঘটনা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা মেয়েদের বাল্যবিয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদেন বলা হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের ব্যাপকতা বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ। লাখ লাখ মেয়েশিশু যে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে, তা আরো জটিল করে তুলেছে কভিড-১৯ মহামারি। স্কুল বন্ধ থাকাসহ বন্ধুবান্ধব ও সহায়তা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা এবং ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

করোনা মহামারি মেয়েদের জীবন গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। মহামারি সম্পর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক দূরত্বের কারণে মেয়েদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক পরিষেবা ও কমিউনিটি সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব সেবা ও সহায়তা তাদের বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা থেকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোজুমি বলেন, মহামারির এক বছরে বাংলাদেশ বাল্যবিয়ের ক্ষেত্রে কষ্টার্জিত অর্জন হারানোর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ ঝুঁকি কার্যকর উপায়ে মোকাবেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবাগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।



সাতদিনের সেরা