kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

‘পরিবর্তনের লড়াইয়ে নারী’ শীর্ষক গোলটেবিলে বক্তারা

প্রয়োজন সমান সুযোগ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রয়োজন সমান সুযোগ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের কনফারেন্স রুমে গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজটোয়েন্টিফোর। ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের নারীদের অগ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ নারী নেতৃত্ব এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল। এমনকি চ্যালেঞ্জিং পেশাতেও নারীরা নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এ দেশের নারীরা ক্রমেই লিঙ্গ বৈষম্য কাটিয়ে উঠছেন। এমনকি নারীরা কাজের ক্ষেত্রে তাঁদের পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় সব সময়ই নিবেদিত। কিন্তু এত কিছুর পরও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় নারীরা এখনো পিছিয়ে আছেন। প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে মেয়েদের সাহসের ঘাটতি আছে। করোনাকালে নারীর প্রতি সহিংসতাও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য সব ক্ষেত্রে শুধু নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে হবে না, তাঁরা সমান সুযোগ পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীর প্রতি সমাজে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘পরিবর্তনের লড়াইয়ে নারী’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রতিদিন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোর এর আয়োজন করে। নিউজটোয়েন্টিফোরের প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা বলেন, ‘সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের নারীদের অগ্রযাত্রা প্রশংসার যোগ্য। নারীর লড়াই অনাদিকাল থেকেই চলছে। আমরা লিঙ্গ বৈষম্য কাটিয়ে উঠেছি। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।’

শিক্ষক ও গবেষক আরিফা রহমান রুমা বলেন, ‘নারীর কাজের জন্য কোনো কোটা বা সহানুভূতির প্রয়োজন নেই। হাঁটতে চলতে গিয়ে আমাদের নারীরা প্রতিনিয়ত অবমাননার শিকার হচ্ছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শুধু নারী হওয়ার কারণে সম্পত্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।’

বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘নারী দিবস শুধু এক দিনের নয়, প্রতিটি দিনই নারীর দিন। প্রতিদিনই নারীর সংগ্রামের দিন। নারী বা পুরুষ নয়, মূল্যায়নের অংশে সকলকে মানুষ হিসেবে মনে করতে হবে। আজ শুধু দেশে নয়, গোটা বিশ্বে নারী কিন্তু আর আগের জায়গায় নেই।’

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘নারীর পরিবর্তনের যে লড়াইয়ের কথা আমরা বলছি, এই লড়াই আসলে অনেক দিন আগেই শুরু হয়েছে। কিন্তু আমাদের লড়াইয়ের গতি খুব তীব্র না। আমরা এখনো নারীর প্রতি সম্মান দেখাতে শিখিনি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহানারা আরজু বলেছেন, ‘চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীরা নিজেদের প্রমাণ করেছে। কর্মক্ষেত্রে নারী নেতৃত্ব নিয়ে সচেতন হতে হবে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রহিমা আক্তার লাকী বলেছেন, ‘সব প্রতিকূলতা পাড় করে নারীদের টিকে থাকতে হবে। সব ক্ষেত্রে শুধু নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লে হবে না। তাঁরা সমান সুযোগ পাচ্ছেন কি না, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নারীরা অনেক এগিয়েছে। কিন্তু এখনো নৌকায় করে বাংলাদেশের নারীকে কেন সাগর পাড়ি দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে নারীরা বর্ণনাতীত নির্যাতনের শিকার হয়। নারী শ্রমিকরা যেসব দেশে আছে, সে দেশগুলোর দূতাবাসে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভাবতে হবে।’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের হেড অব নেটওয়ার্ক সেলিনা আলম বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে বিরূপ জায়গা থাকবেই। এই পরিস্থিতি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া মামুন সিমরান বলেন, ‘নারীর পুষ্টি বিষয়ে সমাজে অনেকটা সচেতনতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু নারীর ভাবনা প্রকাশ করার অধিকার থাকতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান খন্দকার ফারজানা রহমান বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলার নারীদের এই অগ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্য। কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা থামেনি।’

ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী নাফিসা কামাল বলেন, ‘বছরের ৩৬৫ দিন আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি নারী। বাংলাদেশের নারী নেতৃত্ব এখন বিশ্বের কাছে রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক অনিমা রায় বলেন, ‘যে নারীরা ভুক্তভোগী তাঁদের একটি দরজা বন্ধ হলে আরেকটি দরজা খুলে দিতে হবে। যে নারী পরিবারের সকলকে ভালোবেসে আগলে রাখেন, তাঁকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিতে হবে।’

মন্তব্য