kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

অধিকার আদায় করতে হবে যোগ্যতায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অধিকার আদায় করতে হবে যোগ্যতায়

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জয়িতা পদক ২০২১’ প্রাপ্তদের সঙ্গে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের নারীসমাজকে আন্দোলন করে নয়, যোগ্যতার মাধ্যমে অধিকার আদায় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই সমাজকে যদি আমরা এগিয়ে নিতে চাই তাহলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের অধিকার দাও, অধিকার দাও বলে চিৎকার করা, বলা আর বক্তৃতা দেওয়া–এভাবে কিন্তু অধিকার আদায় হয় না। অধিকার আদায় করে নিতে হবে। অধিকার আদায়ের মতো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, সেই যোগ্যতা আসবে শিক্ষাদীক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। যে কারণে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই এ দেশে নারীশিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অবৈতনিক করে দেন জাতির পিতা।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশ নেন তিনি।

সরকার দুই কোটি পাঁচ লাখ ছেলে-মেয়েকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছে, এর মধ্যে বেশির ভাগই নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তবে নারী-পুরুষ উভয়কেই শিক্ষা দিতে হবে। যে কারণে আমরা প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।’

শেখ হাসিনা অতীত স্মরণ করে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে সরকারে এসে দেখেছি কোনো নারীই ডিসি, এসপির পদ পেত না, উপজেলায় কোনো ইউএনওর পদ পেত না। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন বিভিন্ন পদে নারীরা আসীন হয়েছেন।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদীয় উপনেতা সবাই নারী। এটাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি বলেন, অতীতে ধর্মের নাম নিয়ে বা সামাজিকতার কথা বলে নারীকে পশ্চাৎপদ করে রাখার অপচেষ্টা সমাজ থেকে দূর হয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারীদের সম্মাননা দেওয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য প্রতিবছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পাঁচ জয়িতাকে জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এবারও পাঁচজনকে জয়িতা সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। তাঁরা হলেন অর্থনৈতিকভাবে সফল নারীর ক্যাটাগরিতে হাছিনা বেগম নীলা, শিক্ষা ও চাকরির সাফল্যের ক্যাটাগরিতে মিফতাহুল জান্নাত, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে মোসাম্মাৎ হেলেন্নেছা বেগম, নির্যাতিতা বিজয়ী নারী ক্যাটাগরিতে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা রবিজান এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য অঞ্জনা বালা বিশ্বাস।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফহিলাতুননেসা ইন্দিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা ক্রেস্ট এবং সনদ তুলে দেন।

মহিলা ও শিশু প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুননেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্বের মাঝে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই সব ক্ষেত্রে আমরা নারীদের একটা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি, যেটা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরই চিন্তার ফসল।’ তিনি দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারীসমাজ হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সমাজের এই অর্ধেক অংশ যদি অকেজো থাকে, সমাজটা তাহলে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে।

তাঁর মায়ের মতামতকে জাতির পিতা সব

সময়ই অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো অর্জনের পেছনে একজন নারীর যে অবদান থাকে, সেটাই

এখানে সব থেকে বড় কথা। নারীদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এ সময় উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য