kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

বিয়ের ১২ দিনেই বধূর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৭ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিয়ের ১২ দিনেই বধূর রহস্যজনক মৃত্যু

গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের ১২ দিনের মাথায় আফরিন আক্তার মীম (১৭) নামের এক নববধূর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বামী আল-আমীন (৩৫) পলাতক। ময়নাতদন্তের পর গত শুক্রবার রাতে স্বামীর বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে মীমের লাশ দাফন করা হয়েছে।

আল-আমীন কালীগঞ্জ পৌরসভার বালিগাঁও এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আর মীম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পলাশ বাজার এলাকার মাহফুজ মিয়ার মেয়ে। পলাশ পাইলট স্কুল থেকে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

কুয়েতপ্রবাসী আল-আমীনের এটি ছিল তৃতীয় বিয়ে। তাঁর প্রথম স্ত্রী বিয়ের এক মাসের মাথায় প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। এরপর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দুই বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে আরেকজনকে বিয়ে করেন। ওই সংসারে তাঁর আট বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

মীমের স্বজনরা জানান, আল-আমীনরা সাত ভাই। সবাই কুয়েতপ্রবাসী। দ্বিতীয় স্ত্রী চলে যাওয়ায় আবার বিয়ে করে সংসারী হতে ছয় মাসের ছুটিতে চার মাস আগে বাড়ি আসেন তিনি। বোনের বাড়ি যাওয়া-আসার সূত্রে মীমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। উভয়ের সম্মতিক্রমে গত ২১ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়, কিন্তু বিয়ের ১২ দিন না যেতেই মীমের মৃত্যু হলো।

মীমের বাবা মাহফুজ মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফোনে জানায় যে মীম অসুস্থ। মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। তাকে উত্তরায় হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে জানায় মীম মারা গেছে। সুস্থ-সবল মেয়ে বিনা কারণে মাথা ঘুরে পড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টিকে রহস্যজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অবশ্য বিয়ের পর মেয়ে তার মাকে জানিয়েছিল যে কয়েক দিন ধরে বুকে চিনচিন ব্যথা হচ্ছে। তিনি মেয়ের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের দাবি জানান।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুকান্ত বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে মীম অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রেফার করা হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে সেখানে নেওয়ার পথে কালীগঞ্জের তেরমুখ এলাকায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। সুরতহালে মীমের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য