kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

৬৬ লেখকের বিবৃতি

ডিজিটাল আইন বাতিল করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিচার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিলোপ চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের স্বনামধন্য ৬৬ লেখক। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘লেখক ও উদ্যোক্তা মুশতাক আহমেদের মৃত্যু সারা দেশবাসীর মতো আমাদেরও মর্মাহত করেছে, বিক্ষুব্ধ করেছে। ইন্টারনেটের সামাজিক মাধ্যমে কেবল একটি কার্টুন শেয়ার করার জন্য ও কিছু স্ট্যাটাস লেখার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কুখ্যাত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। এরপর টানা ৯ মাস তিনি বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ছয়বার তাঁর জামিন নাকচ হয়েছে। অবশেষে ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে হত্যার আসামির দণ্ড মওকুফ হয় অথবা দ্রুত জামিন হয়, ঋণখেলাপি ও আর্থিক খাত থেকে লুটপাটকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারকারী সহজেই দেশ ছাড়তে পারে, কিন্তু ফেসবুকে সরকারবিরোধী কিছু লেখা যেন তার চেয়ে বড় অপরাধ!’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাঁর (মুশতাক আহমেদের) বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সরকারের সমালোচনা ও গুজব ছড়ানোর। তিনি সরকারের অযৌক্তিক কোনো সমালোচনা করেছেন কি না বা গুজব ছড়িয়েছেন কি না আমাদের জানা নেই। যেকোনো সভ্য দেশেই সেটা নাগরিক অধিকার। সরকারবিরোধী তৎপরতা না করা গেলে বাংলাদেশ নামের দেশটির জন্মই হতো না। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও স্বাধীনতার আগে এবং পরে সরকারবিরোধী বহু আন্দোলন করেছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কিন্তু ২০০৮ সালে এই দফায় ক্ষমতায় আসার পরে তারা নানা রকম আইন তৈরির মাধ্যমে লেখক, সাংবাদিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা ও মতকে দমনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চরম পদক্ষেপ হলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।’

বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্যতম মানবাধিকারবিরোধী দিক হলো—এর মোট ১৩টি ধারার ক্ষেত্রে পুলিশের কাছে যেকোনো কিছুই আমলযোগ্য; অথচ অপরাধ প্রমাণের আগেই সেগুলো জামিন অযোগ্য, এমনকি রকমভেদে শাস্তির মাত্রাও অতি উচ্চ।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘এতগুলো ধারা জামিন অযোগ্য রাখা এবং শাস্তির মাত্রা দেখে আমরা ধারণা করতে পারি, এই আইনটি প্রবর্তন করাই হয়েছে লেখক, সাংবাদিক ও বিরোধী যে কারো রাজনৈতিক মতকে নিবর্তন করার জন্য। ক্ষমতায় চিরদিন থাকার বাসনা থেকেই এই আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। এ আইনের ভয়ংকর দিকটি হলো—এর ৪৩ ধারায় পুলিশকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার, জব্দ ও তল্লাশি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর এই তল্লাশি হতে পারে কোনো ব্যক্তি ডিজিটাল মাধ্যমে অপরাধমূলক কিছু করছে বা করতে পারে বলে মনে হলেই।’

লেখকরা তাঁদের বিবৃতিতে চারটি দাবি করেছেন। সেগুলো হলো—সরকারকে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর দায় স্বীকার করতে হবে, সঠিক তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে হবে। মুশতাক আহমেদের সঙ্গে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে অবিলম্বে শুধু জামিনে নয়, তাঁর মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে এই আইনে এ যাবৎ গ্রেপ্তারকৃত সব বন্দিকে শুধু জামিনে নয়, স্থায়ীভাবে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং তাঁদের প্রত্যেকের মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন—আহমদ রফিক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক, আনোয়ারা সৈয়দ হক, দাউদ হায়দার, যতীন সরকার, মোরশেদ শফিউল হাসান, মামুনুর রশিদ, সলিমুল্লাহ খান, আনু মুহাম্মদ, মোহন রায়হান, শেখ বাতেন, সেলিম জাহান, আজফার হোসেন, শামীম আজাদ, মঈনুল আহসান সাবের, আকিমুন রহমান, ইমতিয়ার শামীম, জি এইচ হাবীব, জাকির তালুকদার, রাজু আলাউদ্দীন, সৈয়দ তারিক, কামরুল হাসান, সেলিম রেজা নিউটন, মুজিব মেহেদী, চঞ্চল আশরাফ, আহমাদ মোস্তফা কামাল, তুষার গায়েন, রাখাল রাহা, ফাহমিদুল হক, কাবেরী গায়েন, আরশাদ সিদ্দিকী, সিরাজ সালেকিন, মজনু শাহ, শাহেদ কায়েস, জফির সেতু, হামীম কামরুল হক, আসিফ, আলমগীর খান, কাজী রাফি, রিফাত মুনিম, ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম, মাহবুব আজীজ, অস্ট্রিক আরজু, আনিসুজ্জামান, খোন্দকার নিয়াজ রহমান, পাপড়ি রহমান, দীপু মাহমুদ, শামীম শাহান, জোবায়েন সন্ধি, সাধনা আহমেদ, তুহিন ওয়াদুদ, রেজা ঘটক, আহমেদ মুনীর, আফসানা বেগম, সুমন সুপান্থ, শফিক সেলিম, সারওয়ার চৌধুরী, রহমান মুফিজ, লুলু আম্মানসুরা, সৈকত হাবীব, সৈকত আমিন, আমীরুল বাশার, মোবাশ্বার হাসান, আফরোজা সোমা, রাদ আহমেদ ও শওকত হোসেন।

মন্তব্য