kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

নগরের নতুন রূপে মুগ্ধ সিলেটবাসী

ইয়াহইয়া ফজল, সিলেট   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নগরের নতুন রূপে মুগ্ধ সিলেটবাসী

সিলেট নগরের চৌহাট্টা থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা। সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সম্প্রসারিত সড়কের মাঝখানের সড়ক বিভাজনে লাগানো হয়েছে কাস্ট আয়রনের গ্রিল। কালো-সোনালি রঙের কারুকাজময় গ্রিলে আভিজাত্যের ছাপ। সৌন্দর্যবর্ধক ফুলগাছ তাতে দিয়েছে স্নিগ্ধতা। কালো পিচঢালা পথের দুই পাশে ফুটপাত সাজানো হয়েছে খয়েরি আর কমলা রঙের সিরামিক ইটে। রাস্তার দুই পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সদ্য তৈরি করা দেয়াল আর সুদৃশ্য প্রধান ফটকগুলোর রূপ পুরো এলাকাকে যেন বদলে দিয়েছে। সন্ধ্যা নামলে সড়ক বিভাজনের পুলগুলোতে জ্বলে উঠছে এলইডি পাইপ লাইটের লাল-নীল আলো। সব মিলিয়ে মনে হবে, পরিপাটি কোনো নগরের একাংশ যেন তুলে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে এখানে।

সিলেট নগরের ব্যস্ততম চৌহাট্টা এলাকার এখনকার চিত্র এটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংস্কারকাজ সম্প্রতি শেষ হওয়ার পর নতুন রূপ পেয়েছে এলাকাটি। আগে থেকেই এ এলাকায় মানুষের আনাগোনা বেশি। নতুন সাজসজ্জা দেখতে এখন প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে অনেক রাত পর্যন্ত পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে চৌহাট্টা এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছে বিভিন্ন বয়সীরা। সেলফি তোলা থেকে শুরু করে হালের টিকটক শ্যুটিং কিছুই বাদ যাচ্ছে না। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করতেও হাজির হচ্ছেন নব দম্পতিরা। ফেসবুকের ফিডজুড়েও ভাসছে চৌহাট্টার দৃষ্টিনন্দন ছবি।

প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের দেয়াল ও ফুটপাত নতুন করে সিরামিক ইট ও মেটাল দিয়ে দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনারের বিপরীত দিকে ঐতিহ্যবাহী সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দেয়ালসহ প্রধান ফটকও নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। এতে করে পুরো চৌহাট্টা এলাকার রূপই বদলে গেছে।

সম্প্রতি রাতের বেলায় কথা হয় চৌহাট্টা এলাকায় ঘুরতে যাওয়া সফটওয়্যার ডেভেলপার হায়দার রুবেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘স্ত্রী ও আমি দুজনেই কর্মজীবী। দিনে কিংবা সন্ধ্যার দিকে সময় হয়ে উঠে না। রাতে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই দেখি অনেকে পরিবার নিয়ে আসেন। তাই আমিও চলে এলাম।’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে ফটোগ্রাফি করছিলেন। তাদের একজন ইনজামামুল হক মাহদী বললেন, ‘রাস্তা, রোড ডিভাইডার, দুই পাশের একাধিক ডিজাইনের দেয়াল-গেট থাকার কারণে অনেক ব্যাকগ্রাউন্ড পাওয়া যাচ্ছে। লাইটিংও ভালো ছবির জন্য।’

সিসিক সূত্রে জানা গেছে, পুরো প্রকল্পে ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় নগরের চৌহাট্টা থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত ৮৬০ মিটার সড়ক উন্নয়ন, রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতসহ এক হাজার ৬৮০ মিটার ড্রেন নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন কাঠামোসহ এক হাজার ৬০ মিটার সড়ক বিভাজন নির্মাণ, ৩০টি বৈদ্যুতিক পোল ও ৬২টি সড়ক বাতি স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ সড়কে রিকশাসহ অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য জানান, প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে। জিন্দাবাজার থেকে বন্দরবাজার পর্যন্ত সড়কের রোড ডিভাইডারের বাকি কাজ শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে।