kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

আরেক মাদক নিরাময় কেন্দ্রে তরুণের রহস্যজনক মৃত্যু

মাদরাসায় ভর্তির কথা বলে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর মালিবাগে ‘হলি লাইফ’ শীর্ষক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ইয়াছিন মিয়া (১৯) নামের এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মালিবাগের খিদমাহ হাসপাতাল থেকে পুলিশ ইয়াছিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠিয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হলি লাইফের মালিকের ভাইসহ চার কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

হলি লাইফ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইয়াছিন বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতন চালিয়ে ইয়াছিনকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের আরো অভিযোগ, মাদরাসায় পড়ানোর কথা বলে হলি লাইফ কর্তৃপক্ষ ইয়াছিনকে ভর্তি নেয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের (উত্তর) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, ‘ঘটনা জানার পরই আজ (গতকাল) দুপুরে আমরা সেখানে গেছি। তদন্ত করে অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান জানান, ইয়াছিন হলি লাইফে ভর্তি ছিলেন। সেখানে তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল দুপুরে সংবাদ পেয়ে খিদমাহ হাসপাতাল থেকে ইয়াছিনের মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বাঁ হাতে পুরান কাটা দাগ, বাঁ পায়ে আঘাত, গলায় অর্ধচন্দ্র কালো দাগ আছে।

পুলিশ জানায়, বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার বড়পাশা গ্রামের মো. মাসুম মিয়ার ছেলে ইয়াছিন। রাজধানীর মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট ১৩ নম্বর সড়কের ২৮ নম্বর বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে ইয়াছিন ছিলেন ছোট। তাঁর বাবা নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসা করেন।

মাসুম মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে মাদকাসক্ত ছিল না। সে লেখাপড়ায় অমনোযোগী ছিল। মাদরাসায় পড়ানোর জন্য আমি তাকে জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখে হলি লাইফে ভর্তি করি। হুজুর (হলি লাইফের মালিক) বলেছেন, সে লেখাপড়ায় মনোযোগী হবে। আজকে (গতকাল) দুপুরে আমারে ফোন দিয়ে ডাকেন। গিয়ে দেখি তাঁরা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে দেখি লাশ। তাঁরা আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরেছেন। শরীরে চিহ্ন আছে।’

মাসুম মিয়া জানান, ইয়াছিন গ্রামের বাড়িতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পরে তাঁকে ঢাকায় এনে হলি লাইফের কথিত মাদরাসায় ভর্তি করা হয়। মাসুম মিয়ার দাবি, গত বৃহস্পতিবার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেও তাঁর দেখা পাননি।

ডিএনসির একটি সূত্র জানায়, ইয়াছিনের চিকিৎসার ফাইল ঘেঁটে দেখা গেছে, তাঁর আত্মহত্যার প্রবণতা ছিল। আত্মহত্যা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা সঠিক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। আবার নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে, তাও যাচাই করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা