kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা

বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি এখন আরো প্রাসঙ্গিক

তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধুর ওপর আরো গবেষণার প্রয়োজন

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউ ইয়র্ক   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি এখন আরো প্রাসঙ্গিক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি গতিশীল হিসেবে চিহ্নিত, বিশ্ব অঙ্গনে যার রয়েছে নিরপেক্ষতার খ্যাতি এবং উচ্চ নৈতিক অবস্থান। আর এ কারণেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বের প্রায় সব দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পেরেছিল বাংলাদেশ।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত একটি ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্টার ফর বাংলাদেশ স্টাডিজের যৌথ উদ্যোগে ওয়েবিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। 

ওয়েবিনারে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে আব্দুল মোমেন বলেন, আদর্শগতভাবে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যন্ত অবিচল। দেশের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত বাস্তববাদী। আর এ জন্য তিনি সর্বজনীন মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতি-আদর্শে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বাসী ছিলেন। এ আদর্শই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি। ভবিষ্যতেও এর ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ পরিচালিত হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি আরো বেশি প্রাসঙ্গিক।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক ও লেখক সলিল ত্রিপাঠি, বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে বিশেষভাবে সম্মানিত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনিয়র কূটনীতিক টমাস এ ডাইন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। সঞ্চালক ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইনস্টিটিউট ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. সঞ্চিতা বি সাক্সেনা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

সাংবাদিক সলিল ত্রিপাঠি বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয়তাবাদ’-এর প্রবক্তা, যার শিকড় নিহিত ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে। তাঁর সেই ধারণা এখনকার পৃথিবীতেও বড়ই প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কূটনীতিক টমাস এ ডাইন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে আলোকপাত করেন। স্বাধীনতার ৫০ বছরে উন্নয়ন ও অগ্রগতির উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করে বাংলাদেশ সে সময়ের মার্কিন নেতৃত্বকে ভুল প্রমাণ করার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

বঙ্গবন্ধু কিভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছিলেন, তা বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধুর ওপর আরো গবেষণার প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

ওয়েবিনারে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সুধীসমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য