kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

ভোট বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় হত্যাচেষ্টা!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভা নির্বাচনে ভোট বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় এক যুবককে বাড়ি থেকে ধরে জঙ্গলে নিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কুপিয়ে জখম করা হয়েছে তাঁর মাকে। গত শুক্রবার রাতে নান্দাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চণ্ডীপাশা মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চণ্ডীপাশার মো. রইছ উদ্দিনের ছেলে রুস্তম আলী (৩০) ও স্ত্রী মাজেদা বেগম (৭০)। রুস্তম নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। মাজেদা বেগমকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে আনা হয়েছে। তাঁর ডান পায়ে ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দিনমজুর রুস্তম আলী আজ রবিবার অনুষ্ঠিত নান্দাইল পৌর নির্বাচনে তাঁর স্বজন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. ইসাক মিয়ার পক্ষে প্রচার চালান। এখানে অন্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হলেন মো. হেদায়েত হোসেন (উটপাখি)। রুস্তম বলেন, দুই দিন আগে তিনি ইসাকের বোতল প্রতীকের একটি মিছিলে ব্যতিক্রমী পোশাকে অংশ নেন। এর পর থেকে হেদায়েতের কর্মীরা তাঁকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মাস্ক পরা কিছু লোক তাঁর বাড়িতে গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাঁকেসহ পরিবারের চার ভোটারকে ৫০০ টাকা করে হাতে ধরিয়ে দিয়ে উটপাখি প্রতীকে ভোট দিতে বলে। তিনি টাকা নিতে অস্বীকারসহ ঘটনাটি প্রশাসনকে জানানোর কথা বলতেই তারা তাঁকে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে গামছা দিয়ে তাঁর মুখ ও হাত-পা বাঁধার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়। তিনি ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার দিলে বাড়ি থেকে বৃদ্ধ মা ছুটে গেলে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে বাড়ির অন্যরা ছুটে গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

গতকাল শনিবার চণ্ডীপাশায় গিয়ে দেখা যায়, মাজেদা বেগম যন্ত্রণায় বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। পাশে শুয়ে আছেন অসুস্থ স্বামী। মাজেদা বেগম বলেন, ‘ছেলেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল মেরে ফেরার জন্য। চিৎকার শুনে আমি সময়মতো না গেলে নদীর কাছে নিয়ে যেতে পারলেই মেরে ফেলত। আমি প্রতিহত করার চেষ্টাকালে আমাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। আমার ছেরা (ছেলে) টেহা না নেওয়ায় তারা এই কাণ্ড করেছে। আমি বিচার চাই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা