kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

কাশিমপুর কারাগার

৮ হাজার বন্দির জন্য চিকিৎসক মাত্র দুজন

ছয় মাসে ১৫ বন্দির মৃত্যু

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর    

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮ হাজার বন্দির জন্য চিকিৎসক মাত্র দুজন

গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সে চার কারাগারে বন্দির সংখ্যা আট হাজারের বেশি। কারাগারগুলোর একটিতে ২০০ শয্যার এবং বাকি তিনটিতে ২০ শয্যার হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসক আছেন মাত্র দুজন। একজন আবার মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন একজন। আর আছেন জনা পাঁচেক নার্স।

গত ছয় মাসে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে এই কারাগারগুলোতে মারা গেছেন অন্তত ১৫ বন্দি, যাঁদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে বুকে ব্যথা নিয়ে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মারা গেছেন লেখক মুশতাক আহমেদ (৫৩)। তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।  

মুশতাক আহমেদের সঙ্গে ঢাকা ও কাশিমপুর মিলিয়ে তিন মাস কারাগারে ছিলেন তাঁর বন্ধু প্রকৌশলী দিদারুল আলম। দিদারুল বলেন, ‘দুই কারাগারেই দেখেছি, চিকিৎসক থাকে না বললেই চলে। নার্সেরা দাদ, খোস-পাঁচড়ার ওষুধ দেয়। চিকিৎসাসেবা শুধুই কাগজে-কলমে।’ 

কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে কয়েদি ও হাজতি মিলিয়ে বন্দি আছেন আট হাজারের ওপরে। এত বিপুল বন্দির জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র দুজন। তা-ও আবার একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় দায়িত্ব পালন করছেন একজন। ডা. উম্মে সালমা নামে যিনি দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি সার্বক্ষণিক থাকেন না। বাসা টঙ্গী হওয়ায় সকালে এসে দুপুরের পর চলে যান। শুক্রবারসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও থাকেন না।

রাতে বা ছুটির দিনে কেউ অসুস্থ হলে একমাত্র ভরসা নার্স। তাঁদের সংখ্যাও খুবই কম, সব মিলিয়ে পাঁচ। হাসপাতালগুলোতে ইসিজি ও ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র ছাড়া আর কোনো যন্ত্রপাতি নেই। ওষুধের অভাবও প্রকট। বন্দি বেশি অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ বা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। যানজটের কারণে ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালে যেতেই অনেক সময় দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে যায়। রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।

কারাগার সূত্র জানায়, চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ জনবল সংকটের কারণে কারাগারের বন্দিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ বয়স্ক বন্দিদের অনেকেই ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। তাঁদের নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন। শুধু ২০০ শয্যার হাসপাতালটির জন্যই ২৬ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এসব হাসপাতালের জন্য কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ডা. উম্মে সালমাসহ যে দুজন দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ডেপুটেশনে আসা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুশতাক আহমেদ কারা ওয়ার্ডে অসুস্থ হয়ে পড়লে কারাগারে চিকিৎসক ছিলেন না। অচেতন অবস্থায় তাঁকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অনেক চেষ্টা করেও ডা. উম্মে সালমার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি কারা অধিদপ্তর অবহিত। বন্দিদের চিকিৎসা দেওয়া আমাদের মৌলিক দায়িত্ব। তাই বন্দিকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা আমরা করি। কারাগারে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না হলে দ্রুত বাইরের হাসপাতালে পাঠানো হয়ে থাকে।’

মন্তব্য