kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

পিপলস লিজিংয়ের মামলায় আদালত

কোনো মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করাবেন না

‘টাকা শোধ না করলে জেলে যেতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কোনো মন্ত্রীকে দিয়ে ফোন করাবেন না

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (পিএলএফএস) লিমিটেডের ঋণগ্রহীতাদের সতর্ক করে দিয়ে আদালত বলেছেন, ‘আপনারা যে ঋণ নিয়েছেন, তা চোর-বাটপাড়দের টাকা না। এটা জনগণের টাকা। আর যারা টাকা জামানত রেখেছে, সেই সব সাধারণ মানুষ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। আগে টাকা দিন। প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে হবে। আগে টাকা দেবেন, তারপর আলোচনা, দর-কষাকষি। টাকা না দিলে জেলে যেতে হবে।’

পিএলএফএস লিমিটেড অবসায়নসংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্টের কম্পানি বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন।

আরেফীন শামসুল আলামীন নামের এক ঋণগ্রহীতা আদালতে বলেন, ‘আমার জন্য ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু পিপলস লিজিং আমার কাছে ৩৮৪ কোটি টাকা দাবি করছে। আমি প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা কিস্তি দিতাম। গত ২৪ মাস ধরে কিস্তি দিইনি।’ এ সময় আদালত এই ব্যবসায়ীর আত্মীয়-স্বজনের পরিচয় তুলে ধরে বলেন, ‘মন্ত্রী দিয়ে ফোন করাবেন না। মন্ত্রী বা কারো প্রভাবে কাজ হবে না। আইনের মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। আপনারা আইনের মধ্যে পড়ে গেছেন।’ আদালত বলেন, ‘আপনাদের প্রথম দায়িত্ব টাকা দেওয়া। এরপর কে কত টাকা কবে কিভাবে দেবে, সে ব্যাপারে আলোচনা হবে।’

আদালত আগামী ৯ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আগের দুই দিন যাঁরা হাজির হননি, তাঁদের আগামী শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কাজী এরশাদুল আলম। ঋণগ্রহীতাদের পক্ষে ছিলেন সৈয়দা নাসরিন, আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, বেলায়েত হোসেনসহ বেশ কয়েকজন। পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়কের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মেজবাহুর রহমান।

পিপলস লিজিং থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন—এমন ২৮০ জনকে গত ২১ জানুয়ারি তলব করেন হাইকোর্ট। এদের মধ্যে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৪৩ জনকে এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৩৭ জনকে হাজির হতে বলা হয়। প্রথম দিন হাজির হন ৫১ জন। আর গতকাল ছিলেন ৪৫ জন।

মন্তব্য