kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

টিকাদানে ফের ভাটা

দৈনিক দুই লাখের বেশি থেকে নেমে এসেছে দুই লাখের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিকাদানে ফের ভাটা

দেশে টিকা দেওয়ায় আবার কিছুটা ভাটা পড়েছে। মাঝে কিছুদিন দৈনিক আড়াই লাখ বা এর কাছাকাছিসংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন দিন ধরে সেটা কমতে শুরু করেছে।

যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সরকারি হিসাবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাত্র ৯৯৬ জনের দেখানো হলেও বাস্তবে এই সংখ্যা বেশি। তবে স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ায় বেশির ভাগই সেটা নিজের উদ্যোগে টিকাদান কেন্দ্রকে জানাচ্ছে না। সে কারণে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা যোগ হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষও টিকা দেওয়ার পর পর্যাপ্ত মনিটর করছে না।

টিকা নেওয়ার পরও যাঁদের করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসছে, তাঁদের ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্য যে প্রটোকল আছে, সেটা মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ব্যবস্থাপনা শাখার পরিচালকের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য অনুসারে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দেশে টিকা নিয়েছেন ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে গতকাল এক দিনে টিকা নিয়েছেন এক লাখ ৮১ হাজার ৪৩৯ জন। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫। তারও আগের দিন ছিল এক লাখ ৮২ হাজার ৮৯৬। এর আগে এই সংখ্যা দুই লাখ, এমনকি কয়েক দিন আড়াই লাখ ছাড়িয়েছিল। এখন পর্যন্ত দেশে যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১৮ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৫ জন পুরুষ এবং ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৫ জন নারী। দিনে দিনে নারীদের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র।

ওই সূত্র অনুসারে গতকাল যাঁরা টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এক লাখ ১২ হাজার ৪৮৯ জন পুরুষ এবং ৬৮ হাজার ৯৫০ জন নারী।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দুই দিনে টিকা নেন ৭৭ হাজার ৬৬৯ জন। তৃতীয় দিনে টিকা নিয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৮২ জন। টিকাদান কর্মসূচির নবম দিন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৬১৩ জন। ওই দিন টিকা নেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৯০২ জন।

গতকাল সন্ধ্যার পর পর্যন্ত দেশে টিকা নিতে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা ৪১ লাখ ছাড়িয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়।

এখন যাঁরা টিকা নিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেরই দু-এক দিনের জন্য হলেও কিছুটা জ্বর বা হাতে ব্যথার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়গুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সরকারি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে না বলেও মনে করছেন কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। যাঁদের এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তাঁরাও সবাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টিকা দেওয়ার পর অনেকের মধ্যেই বিভিন্ন মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে যাঁরা নিজ নিজ টিকাদান কেন্দ্রে বিষয়টি অবহিত করেন, তাঁদের সংখ্যাটিই সারা দেশ থেকে কেন্দ্রের হিসাবে যুক্ত হয়। যাঁরা অবহিত করেন না, তাঁদের হিসাব আমাদের কাছে না থাকাটাই স্বাভাবিক। কারণ লাখ লাখ মানুষ টিকা নিচ্ছেন, সবাইকে ফোন করে প্রতিদিন খোঁজ নেওয়া সম্ভব নয় বা এমন ব্যবস্থাও নেই।’ তিনি আরো বলেন, টিকা নেওয়ার পর অনেকের করোনা পজিটিভ হওয়ায় কেউ কেউ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছেন। আবার কেউ কেউ টিকার কার্যকারিতা নিয়েও সংশয়-সন্দেহে ভুগছেন। কিন্তু বিষয়টি খুবই পরিষ্কার যে টিকা দেওয়ার দু-তিন সপ্তাহ পরে শরীরে কার্যকর মাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এর আগে যেকোনো সময় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। আবার যখন তিনি টিকা নিয়েছেন, তখন কোনো উপসর্গ না থাকলেও এর আগেই তিনি হয়তো সংক্রমিত হয়েছিলেন। ফলে টিকার কারণে করোনা হয়েছে এমনটা ভাবার কোনোই সুযোগ নেই। তবে বড়কথা হচ্ছে, টিকা নেওয়ার আগে বা পরে যখনই যিনি করোনা পজিটিভ হবেন, তখনই তাঁকে অবশ্যই আইসোলেশনে যেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতাগুলো মেনে চলতে হবে। কোনো ধরনের জটিলতা টের পেলেই দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। কোনো ঝুঁকি নেওয়া চলবে না।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, টিকা শরীরে কার্যকর হলেও যেকোনো সময় করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। টিকা নেওয়ার সুবিধা হচ্ছে, শরীরে অ্যান্টিবডি থাকার কারণে ভাইরাস সংক্রমণ ঘটলেও তা দুর্বল থাকবে। এই ভাইরাস অন্যের মধ্যে ছড়ানোর সক্ষমতা থাকলেও একইভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে টিকা নেওয়ার পরেও করোনায় আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমে যাবে যদি আগে থেকে অন্য কোনো মারাত্মক জটিলতা না থেকে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আরেক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে পাঁচজন। নতুন শনাক্ত হয়েছে ৪১০ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৯৫৭ জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে আট হাজার ৩৮৪ জন এবং সুস্থ হয়েছে চার লাখ ৯৪ হাজার ৭৫৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া  পাঁচজনের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং একজন নারী।

মন্তব্য