kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত সৈয়দ আবুল মকসুদ সমাহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সব মহলের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ। জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আজিমপুর কবরস্থানে মেয়র হানিফ মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে।

দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে জানাজার আগে সৈয়দ আবুল মকসুদের ছেলে নাসিফ মাকসুদ বলেন, ‘বাবা সারা জীবন দেশের মানুষের কল্যাণে চিন্তা ও কাজ করার চেষ্টা করেছেন। দোয়া করবেন এবং কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে মাফ করে দেবেন।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘সৈয়দ আবুল মকসুদের আচমকা মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়। এ মৃত্যু শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, জাতির জন্যও অনেক ক্ষতির। তিনি নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে কলাম লিখতেন; সবার শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন। তাঁর নির্মোহ, সহজ-সরল জীবনযাপন সবার থেকে আলাদা ছিল।’

জানাজায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে, ডিইউজে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে সাংবাদিক নেতারা তাঁর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বিকেল ৩টার দিকে সৈয়দ আবুল মকসুদের মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশের পতাকা দিয়ে তাঁকে আচ্ছাদিত করেন। তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ। তারপর সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন করে সিপিবি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ক্ষেতমজুর সমিতি, ভাসানী পরিষদ, ঐক্য ন্যাপ, বাসদ, ছাত্র ফেডারেশন, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, আদিবাসী ফোরাম, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশিষ্টজন ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে তাঁর লেখা অপরিসীম। তাঁর লেখায় বর্তমান প্রজন্মের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বাঙালির হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন, পাশাপাশি রাজপথে নেমেও প্রতিবাদ করেছেন। তিনি প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবী ছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে স্মরণ রাখবে।

নাগরিকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তাঁর আরেক দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

গত মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় সৈয়দ আবুল মকসুদকে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ওই রাত ১০টায় ধানমণ্ডির মসজিদে তাকওয়ায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর মরদেহ রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে রাখা হয়।

মন্তব্য