kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

আদালতের রায়ে জোড়া লাগল ৫৪ সংসার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসারে পান থেকে চুন খসলেই চলত বেদম মারধর। আবার যৌতুকের জন্যও বিভিন্ন সময় চলত নির্যাতন। সামাজিকভাবে এসব ঘটনা নিষ্পত্তি করা হলেও নির্যাতন থামেনি। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সময় নারীরা নির্যাতক স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এসব মামলায় জেলও খেটেছেন স্বামীরা। অপেক্ষায় ছিলেন রায়ের। সাজাভোগের মানসিক প্রস্তুতিও ছিল।

এদিকে আদালত মামলার শুনানির সময় লক্ষ করেন অসহায় এসব নারীর কোলে নিষ্পাপ শিশুর উপস্থিতি। মামলা চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। এক অনিশ্চিত জীবনের মুখে দাঁড়িয়ে দুই পক্ষই। তাই আদালত নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে উদ্যোগ নেন এসব মামলা আপসে নিষ্পত্তি করে সংসার জোড়া লাগানোর।

অবশেষে সফল হয়েছেন সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৬৫টি মামলার মধ্যে ৫৪টি আপসে নিষ্পত্তির ব্যতিক্রর্মী রায় দিয়েছেন। বিরল রায়ের ফলে সংসারবিচ্যুত অসহায় নারীরা ফিরে পেয়েছেন স্বামী। কোমলমতি সন্তানরা ফিরে পেয়েছে বাবাকে। আর আদালত এজলাসেই তাদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, একই আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গত বছরের ২৫ নভেম্বর এক দিনে এসংক্রান্ত আরো ৪৭টি মামলা আপসে নিষ্পত্তি করে সংসার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এবার তিনি ৫৪টি মামলায় একই রায় দিয়েছেন।

সুনামগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নির্যাতনের শিকার নারীরা গত কয়েক বছরে ৬৫টি মামলা দায়ের করেন। এতে স্বামীদের বেশির ভাগই জেল খেটেছেন। অনেকে জেল থেকে জামিনে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব মামলার শুনানি চলছিল। বিভিন্ন সময়ে আদালত পর্যবেক্ষণ করে স্বামী, স্ত্রী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে শিশু ও নারীদের কথা বিবেচনা করে আপসের প্রচেষ্টা চালান। এতে ৫৪টি পরিবার আদালতের মাধ্যমে আপস নিষ্পত্তিতে রাজি হয়।

আপসে আসা ৫৪টি পরিবারের স্বামী-স্ত্রীদের গতকাল দুপুরে আদালতের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। আদালত রায়ে স্বামী-স্ত্রীদের কর্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। দীর্ঘদিন পর স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের মধুর মিলনে আদালতপাড়ায় অন্য রকম আবহ তৈরি করে। উপস্থিত লোকজন তাদের করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানায়।

সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, ‘এই আদালত গত বছরও এ রকম ৪৭টি মামলায় ব্যতিক্রর্মী রায় দেন। দ্বিতীয়বার ৬৫টি নারী-শিশু নির্যাতন দমন মামলায় রায় দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫৪টি মামলায় স্বামী-স্ত্রীকে আপসের মাধ্যমে সংসার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন। বাকি ১১টি মামলায় আপস না হওয়ায় অপরাধী স্বামীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা