kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

ভাসানচরে আরো ১০০৯ রোহিঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চতুর্থ দফার দ্বিতীয় পর্যায়ে এক হাজার ১১ জন রোহিঙ্গা গতকাল মঙ্গলবার নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে পৌঁছেছে। আগের দিন সোমবার দ্বীপটিতে পা রাখে আরো দুই হাজার ১০ জন। এই নিয়ে এ পর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজার রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলো।

অন্যান্যবারের মতো এবারও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে তাদের সড়কপথে আনা হয় চট্টগ্রামে। রাতে তাদের  রাখা হয় বিএএফ শাহীন কলেজ মাঠের অস্থায়ী ক্যাম্পে।

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মেজাম্মেল হক গতকাল বলেন, ষষ্ঠ দফায় এক হাজার ১১ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পাঁচ দফায় সেখানে গেছে আট হাজার ৫৮১ জন রোহিঙ্গা।

ভাসানচর থানার ওসি মো. মাহে আলম জানান, এবারও রোহিঙ্গাদের জাহাজ থেকে নামিয়ে প্রথমে প্রাথমিক মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। পরে ভাসানচরে বসবাসের নিয়ম জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই রোহিঙ্গাদের তিন দিন খাওয়ানো হবে। পরে তাদের রেশন দেওয়া হবে।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ভাসানচরে পৌঁছে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা। পরে ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় কক্সবাজার থেকে আরো এক হাজার ৮০৫ জন রোহিঙ্গা সেখানে যায়। এরপর ২৯ জানুয়ারি ভাসানচরে পৌঁছায় এক হাজার ৬৬৭ জন রোহিঙ্গা। ৩০ জানুয়ারি আরো এক হাজার ৪৬৭ জনের নতুন ঠিকানা হয় ভাসানচর।

এ ছাড়া গত বছরের ৮ মে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ভাসতে থাকা ২৭৭ জন রোহিঙ্গার আরো একটি দলকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়। তাদের মধ্যে ৯২ জন পুরুষ, ১৫৭ জন নারী ও ২৮ জন শিশু ছিল।

মিয়ানমার থেকে প্রাণ হাতে পালিয়ে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তাদের মধ্য থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানাস্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা দ্বীপটিতে তিন হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।