kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নির্বাচনী সহিংসতা

শিবগঞ্জে সংঘর্ষে কৃষক লীগ নেতা নিহত, উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিবগঞ্জে সংঘর্ষে কৃষক লীগ নেতা নিহত, উত্তেজনা

আজহারুল ইসলাম

বগুড়ার শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে কৃষক লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম নান্টু নিহত হয়েছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সামনে রেখে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এস এম রূপম এবং বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ও নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাফর মণ্ডলের সমর্থকদের মধ্যে গত সোমবার রাত পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় নান্টুর বাবা আব্দুল বাছেদ মণ্ডল বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের দাড়িদহ বাজারে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে দাড়িদহ বাজারের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ ১০টি দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান এস এম রূপমের সমর্থিত ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক লীগের সভাপতি নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল বাছেদ মণ্ডলের ছেলে আজহারুল ইসলাম নান্টুকে (৩৫) প্রতিপক্ষ জাফর গ্রুপের লোকজন একা পেয়ে মাথা ও পায়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গতকাল ভোরে তিনি মারা যান।

এ ঘটনার পর গতকাল সকাল থেকে দাড়িদহ বাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বন্দরের সব দোকানপাট বন্ধ ছিল। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান এস এম রূপম বলেন, আবু জাফর মণ্ডল জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত সন্ত্রাসী লোকজন সঙ্গে নিয়ে কৃষক লীগ নেতা নান্টুকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা আবু জাফরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, বন্দর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

বাঘায় যুবলীগ নেতার পা ভেঙে দিল প্রতিপক্ষ

রাজশাহী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বাঘার আড়ানী পৌর নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট করায় গতকাল সকালে ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আজিবর রহমানকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আজিবরকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তার আলীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত রাজন, রাজু, অংকুর, সোহান, সেলিম, বকুলসহ কয়েকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আড়ানী পৌর যুবলীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আজিবর রহমান গতকাল সকালে রুস্তমপুর থেকে আড়ানী পৌর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি রুস্তমপুর-মোমিনপুর ঈদগাহ মাঠের সামনে পৌঁছলে রাজন, রাজু, অংকুরসহ অন্যরা হাতুড়ি, লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তাঁর ডান পা ভেঙে দেয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাতুড়ির পিটুনিতে আজিবর রহমানের ডান পা ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

গোপালপুরে মেয়র প্রার্থী নিহতের ঘটনায় দুই মামলা

এদিকে ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌর নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতেই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি এবং নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলা করা হয়। আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ আটজনকে আটক করেছে। নিহত খলিল আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিনের সমর্থক।