kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

‘ভুলভাল’ শিক্ষা সনদ

পাপুলের বহিষ্কার চেয়ে করা রিটের শুনানি ২ ফেব্রুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুয়েতে দণ্ডিত কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে তাঁর সংসদীয় আসন (লক্ষ্মীপুর-২) কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।

তবে এ রিট আবেদনে বিতর্কিত ওই সংসদ সদস্যের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁর সংসদ সদস্য পদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল ফয়েজ ভূঁইয়া এই রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আওসাফুর রহমান বুলু জানান, এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ আগস্ট রুল জারি করেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইনসচিব, পাপুল, নির্বাচন কমিশন, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, পাপুল হলফনামায় স্নাতকোত্তর উল্লেখ করলেও জমা দিয়েছেন স্নাতক সনদ। তিনি সিয়েরা লিয়নের মিলটন মরগাই কলেজ অব এডুকেশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স ইন ইকোনমিকস বিষয়ে স্নাতক সনদ দিয়েছেন। অথচ কলেজটিতে বিষয়টি পড়ানোই হয় না। ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ‘লক্ষ্মীপুর২৪ডটকম’ নামের এটি পোর্টালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাপুল বলেন, ১৯৯২ সালে ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। পরে নিউ ইয়র্ক সিটি কলেজে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেন। অথচ সিয়েরা লিয়ন থেকে স্নাতক সনদ সংগ্রহ করেছেন ১৯৮৭ সালে। উচ্চ মাধ্যমিকের আগে স্নাতক পাসের তথ্য অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ঘুষ দেওয়ার দায়ে কুয়েতের আদালত পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। এখনো সেখানে মানব ও অর্থপাচারের অভিযোগের বিচার শেষ হয়নি। এই সাজা হওয়ার ফলে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পাপুলের সদস্য পদ থাকতে পারে না।

এ ছাড়া দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে পাপুল ও তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে গত বছরের ১১ নভেম্বর মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।