kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

জামিন না নিয়েই মেয়র পদে শপথ নিলেন মুক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামিন না নিয়েই মেয়র পদে শপথ নিলেন মুক্তার

জামিন না নিয়েই রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার মেয়র পদে শপথ নিলেন বিস্ফোরক মামলার আসামি মুক্তার আলী। পুলিশের খাতায় পলাতক এই আসামি গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো শপথ নিয়েছেন। একই সঙ্গে শপথ নিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের ছয়টি জেলার ১৯ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র এবং ১৭১ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী আসনের ৫৭ জন কাউন্সিলর।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর শিল্পকলা একাডেমির বাইরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেই মুক্তার আলীকে নিয়ে উল্লাস করে তাঁর সমর্থকরা। বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল বারী বলেন, ‘মুক্তার আলী পলাতক আসামি কি না তা আমার জানা নেই। তাঁর জামিনের কোনো কাগজও থানায় নেই।’

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফ আলী বলেন, ‘মুক্তার আলীকে আমরা গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেও ধরতে পারিনি। তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে শপথ নিয়েছেন। তিনি এখনো পলাতক আসামি।’   

থানা সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১৬ জানুয়ারি। এর দুই দিন আগে সহযোগীদের নিয়ে আড়ানী বাজারজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন মুক্তার আলী। মুক্তার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৪ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মুক্তারের নেতৃত্বে তাঁর সশস্ত্র সহযোগীরা আড়ানী বাজারসংলগ্ন তালতলায় আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী শহিদুজ্জামান শহিদের পথসভায় হামলা চালায়। এ সময় তারা গুলিবর্ষণ ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। শহিদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া তালতলা বাজারে তারা কমপক্ষে ২৫টি দোকানে লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। পরদিন আড়ানী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ও তাঁর ভাগ্নে আরিফ হোসেনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় মুক্তারের সমর্থকরা।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী শহিদের ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মুক্তার আলীসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ ব্যক্তিকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। এ ঘটনায় মিলন নামে মুক্তার আলীর এক সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাঘা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান নিপ্পন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় মুক্তার আলীর সশস্ত্র বাহিনী আছে। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পুরনো। মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর মুক্তার ও তাঁর সহযোগীরা গুলি ও বোমা হামলা চালিয়েছে। মুক্তার বিস্ফোরক মামলার আসামি। তার পরও তিনি কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলতে পারব না। এটা পুলিশই ভালো জানে।’

বাঘা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়র মুক্তার বিস্ফোরক মামলার অন্যতম আসামি। এ মামলায় কয়েকজন আসামি জামিনে আছেন। তবে মেয়রের কোনো জামিনের কাগজ আমরা পাইনি। কাজেই তিনি পুলিশের চোখে পলাতক আসামি। তাঁকে ধরার জন্য চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার এড়িয়েই তিনি শপথ নিয়েছেন।’

মন্তব্য