kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

মঞ্জুর হত্যা মামলা

তিন আসামির বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর পর ফের এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো। গতকাল সোমবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনা এ অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন। এরপর আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। এদিকে মামলার আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ ও মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ মারা যাওয়ায় তাঁদের অব্যাহতি দেন আদালত।

এ মামলার বাকি তিন আসামি মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূঁইঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসের গতকাল আদালতে উপস্থিত হন। তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে পক্ষের আইনজীবীরা আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। এরপর আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার পথে মঞ্জুরকে আটক করে পুলিশ। এরপর ওই বছরের ২ জুন তাঁকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মৃত্যুর সনদপত্র পেতে দেরি হওয়ায় ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। ১৯৯৫ সালের ২৭ জুন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

দীর্ঘ ১৯ বছর মামলাটি বিভিন্ন কারণে ঝুলে ছিল। বিচার চলাকালে পর্যায়ক্রমে ২২ বিচারক বিচারিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে তাঁরা সবাই বদলি হন। ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি মামলার ২৩তম বিচারক ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তার ওই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি পুরনো ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রচি মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর গত ১২ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনার আদালতে এ সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে তিন আসামিকে অভিযুক্ত করে প্রয়াত এইচ এম এরশাদ ও আবদুল লতিফকে অব্যাহতি দিয়ে আবেদন করা হয়।

মন্তব্য