kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

টিকার প্রশিক্ষণে স্বাস্থ্যকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকার প্রশিক্ষণে স্বাস্থ্যকর্মীরা

কিভাবে কভিড-১৯-এর টিকা দিতে হবে, সে বিষয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ। গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বন্ধু দেশ ভারতের কাছ থেকে উপহার হিসেবে করোনাভাইরাসের ২০ লাখ ডোজ টিকা আগেই পেয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের কেনা ৫০ লাখ ডোজ টিকাও গতকাল সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ এসে পৌঁছেছে দেশে। এবার প্রয়োগের পালা। তবে এই পর্যায়ে এসে কাঙ্ক্ষিত এই টিকা ঘিরে কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

টিকা কিভাবে দেওয়া হবে, কারা টিকা নিতে পারবে আর কারা পারবে না, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা কতটা প্রশিক্ষিত—এমন নানা প্রশ্ন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। আর সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটাতে ভ্যাকসিন প্রদানবিষয়ক এক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় গতকাল সোমবার সকালে নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটরিয়ামে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মোট ৮৫ জন চিকিৎসক ও নার্সকে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রদানসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুইজন প্রতিনিধি।

দুপুর ২টা পর্যন্ত চলমান এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচটি হাসপাতালকে বাছাই করা হয়েছে। এগুলো হলো—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রশিক্ষকরা গত সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। তাঁরাই এখন প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। উদ্বোধনের পর ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত টিকা দেওয়ার কাজ চলবে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য টিকা দেওয়ার পর আধাঘণ্টা পর্যন্ত টিকা গ্রহণকারীকে বসিয়ে রাখা হবে। পাঁচটি মেডিক্যালে প্রথমদিকে চার থেকে পাঁচটি টিম কাজ করবে। পর্যায়ক্রমে তা ২০০টিতে উন্নীত করা হবে। প্রতি টিমে ছয়জন সদস্য থাকবেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন ভ্যাক্সিনেটর ও চারজন ভলান্টিয়ার।

প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষকরা ভ্যাকসিনের বিষয়ে কিছু নির্দেশনা দেন। যেমন—একজন রোগীকে দশমিক ৫ মিলিলিটার করে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। ভ্যাকসিনের একটি ভায়াল ১০ জন রোগীকে দেওয়া যাবে। আর একটি ভায়ালে ভ্যাকসিন থাকবে পাঁচ মিলিলিটার করে। ভায়াল খোলার ছয় ঘণ্টা পর আর সেটির ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যাবে না। ১৮ বছরের নিচে, গর্ভবতী ও দুগ্ধপ্রদানকারী মা, অসুস্থ ব্যক্তি, করোনা আক্রান্ত রোগীকে টিকা দেওয়া যাবে না। টিকা-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

প্রশিক্ষকরা ভ্যাকসিন প্রদানের নিয়মাবলি ভালোভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। পাশাপাশি একজন ডামি করোনা রোগীকে ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে তাঁরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা