kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় বঞ্চিত বিআইডাব্লিউটিসি

মানিকগঞ্জ (আঞ্চলিক) ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এক সপ্তাহ ধরে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। ফলে রাতে ঘাটে আসা দূরপাল্লার কোচগুলোকে দিনের বেলা পারাপার করতে হচ্ছে। এতে দিনে আসা যানবাহনগুলোকে পারের অপেক্ষায় ঘাটে বসে থাকতে হচ্ছে। একই কারণে গতকাল রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে তিনটি ফেরি মাঝ পদ্মায় আটকা পড়ে ছিল। উভয় ঘাটে আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত বিভিন্ন গাড়ি। প্রচণ্ড শীতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় গাড়ির কর্মী ও যাত্রীদের।

দৌলতদিয়া ঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারিজ পর্যন্ত চার কিলোমিটার রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে শনিবার রাতে দেড় শতাধিক ‘নাইটকোচ’ ছিল। গতকাল দুপুরের দিকে কোচগুলো ফেরির নাগাল পায়। অন্যদিকে পাটুরিয়া সংযোগ মোড় থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়ি ফেরি পারাপার হয়। এতে উভয় ঘাট মিলে ফেরির টিকিট বিক্রি বাবদ প্রতি ২৪ ঘণ্টায় গড়ে ৬০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। গতকাল পর্যন্ত আট দিনে ঘন কুয়াশার কারণে এই নৌপথে মোট ৬১ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিআইডাব্লিউটিসি।

এদিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু রাখার বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। কুয়াশাকালীন ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ২০১৫ সালে দরপত্রের মাধ্যমে ১০টি ফেরিতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফগলাইট’ স্থাপন করেছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সাড়ে সাত হাজার কিলোওয়াটের প্রতিটি ফগলাইট কেনা বাবদ খরচ হয় অর্ধ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু কুয়াশায় ফেরি চলাচলে কোনো কাজে না আসায় স্থাপনের পর থেকে ফগলাইটগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার সময়ে নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে বিআইডাব্লিউটিসি একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় বঞ্চিত হয়, অন্যদিকে ঘাটে গাড়ি আটকে থাকায় চালক-সহকারী ও হাজার হাজার যাত্রী দুর্ভোগ পোহান।’ তাই ঘন কুয়াশার মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি জানান।

বিআইডাব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটে সহকারী ব্যবস্থাপক মহিদ্দীন রাসেল জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে থাকে। রাত ১০টার দিকে নৌপথের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। তাই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সকাল ১০টা থেকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই নৌপথে ছোট-বড় ১৪টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা