kalerkantho

শনিবার । ২৭ চৈত্র ১৪২৭। ১০ এপ্রিল ২০২১। ২৬ শাবান ১৪৪২

করোনার ধাক্কা সামলে নিতে লাগবে তিন বছর

আইবিএফবির ওয়েবিনারে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের অর্থনীতি করোনা মহামারির ধাক্কা কিছুটা কাটিয়ে উঠেছে। তবে ধাক্কাটা পুরোপুরি সামলে উঠতে দুই থেকে তিন বছর লাগবে। কেননা অর্থনীতিতে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রাজস্ব আহরণ খাত ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের পাশাপাশি আগামী বাজেট হতে হবে সংস্কারমুখী।

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) আয়োজনে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আইবিএফবি প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্য এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ।

ওয়েবিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার পলিসি ফর ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিআইডিএসের ডিরেক্টর জেনারেল ড. ফেরদৌস মুরশেদ, আইবিএফবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এম এস সিদ্দিকী, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

মূল প্রবন্ধে ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেটের জন্য চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতাসহ বেশ কিছু বিষয়কে মূল প্রবন্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়। আর অর্থনীতি গতিশীল করতে সরকারি-বেসরকারি খাত মিলিয়ে উপদেষ্টা প্যানেল গঠন, রাজস্ব আহরণ খাতে সংস্কার, বিদ্যমান আইন সংস্কার, করোনা মোকাবেলায় বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ রাজস্ব আয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনীতির কিছু সূচকে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত করার সুপারিশ করা হয়।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘চলতি বাজেটটি একটি দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল। সে পরিস্থিতি আমরা কিছুটা কাটিয়ে উঠেছি। তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। আগামী দু-তিন বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঢেলে সাজাতে হবে। ফিসক্যাল স্ট্যাবিলিটি রক্ষা করতে হবে। কোয়ালিটি অব এক্সপেনডিচার নিয়ে ভাবতে হবে। বাজেট সম্প্রসারণশীল হলেও ভাবনার কিছু নেই। বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এসএমই, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গুরুত্ব দিতে হবে এবং আওতা বাড়াতে হবে।’

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘করোনা যে ধাক্কা দিয়েছে তা আগামী দু-তিন বছর থাকবে। সে চিন্তা মাথায় রেখেই এগোতে হবে। আমরা গত এক দশকে রাজস্ব আদায় ১ শতাংশও বাড়াতে পারিনি। রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ অবস্থা ভালো নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কাঠামোগত অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। সেটি দূর করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার সমন্বয় নেই। বাজেটের সঙ্গে সংস্কার কর্মসূচি না এলে কিছুই হবে না।’

ড. ফেরদৌস মুরশেদ বলেন, বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। করোনায় যতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে ভাবা হয়েছিল তা হয়নি। বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে রিকভারি দেখতে পাচ্ছি। অর্থনীতিও রিকভারি করছে। এটাকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। আগামী বাজেটে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষি খাতে প্রণোদনা দিতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে নজর দিতে হবে। ট্যাক্স-জিডিপি আনুপাতিক রেশিও উন্নত হচ্ছে না, রাজস্ব আদায় বাড়ছে না। এগুলোতে নজর দিতে হবে।

এম এস সিদ্দিকী বলেন, আগামী বাজেটে বন্ড লাইসেন্স তুলে দিলে দেশের শত শত ইন্ডাস্ট্রি আন্তর্জাতিক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত হবে। ১৯৯০ সাল থেকে দেশে সংস্কার হচ্ছে। প্রতিবারই দেখা গেছে, ট্যাক্স কমালে সরকারের রাজস্ব বাড়ে। তাই আগামী বাজেটেও ট্যাক্স কমানো উচিত।

আলী হোসাইন আকবর আলী বলেন, ‘আগামী বাজেটে ব্যবসায়ী ও শীর্ষ শিল্পপতিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা উচিত। কমিটি আমাদের সমস্যা শুনে তা সমাধানের সুপারিশ করবে।’

মন্তব্য