kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

বর্জ্যের ভাগাড়

উত্তর ফ্যাসাদে নির্ভার দক্ষিণ

শম্পা বিশ্বাস   

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



উত্তর ফ্যাসাদে নির্ভার দক্ষিণ

গেল বছরের শেষ দিন ওয়াসার কাছ থেকে খাল বুঝে পেয়ে পরিষ্কার ও দুই পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উঠেপড়ে লাগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। খাল পুনরুদ্ধারে দুই সিটি করপোরেশন অভিযানে নামে নতুন বছরের শুরুতেই। তবে খাল থেকে তোলা প্রায় পাঁচ হাজার টন বর্জ্য নিয়ে ফ্যাসাদেই পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। জায়গা সংকটের কারণে এই বিপুল বর্জ্য কোথায় ফেলবে ডিএনসিসি, সেটিই এখন প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তিদের দুশ্চিন্তার কারণ, যদিও গত মঙ্গলবার পর্যন্ত খাল থেকে তোলা সাড়ে ২১ হাজার টন ময়লা নিয়ে ভাবনার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তারা।

গত ৪ জানুয়ারি থেকে ইব্রাহিমপুর খাল পরিষ্কার ও পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে ডিএনসিসি তাদের খাল পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরু করে। এখন পর্যন্ত ইব্রাহিমপুর, রামচন্দ্রপুর, বাউনিয়া, রূপনগর, বাইশঢেকী, সাগুফতা, আবদুল্লাপুরসহ ১৪টি খালের বর্জ্য সরাতে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর। গত ১৭ দিনে এই খালগুলো থেকে চার হাজার ৭৬২ টন বর্জ্য তুলেছে ডিএনসিসি। বিপত্তি বাধে সেখানেই।

আমিনবাজারে ৫০ একর জায়গাজুড়ে ঢাকা উত্তরের ময়লার ভাগাড়। এই ল্যান্ড ফিল্ডে ২০০৭ সাল থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে তিন হাজার টনের বেশি বর্জ্য উৎপাদিত হয়, যা ফেলা হয় আমিনবাজারে। এই ল্যান্ড ফিল্ডের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সাল পর্যন্ত। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর সেখানে আর ময়লা ফেলার জায়গা থাকবে না। এই অবস্থায় খাল থেকে তোলা বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ড ফিল্ডে ফেললে সেখানে বাসাবাড়ির ময়লা ফেলার জায়গা থাকবে না। আবার আমিনবাজার ছাড়া বর্জ্য ফেলার আলাদা কোনো জায়গাও নেই ডিএনসিসির। ফলে এখন নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে খাল থেকে তোলা বর্জ্য। বর্তমানে এর সীমানাপ্রাচীর উপচে চারপাশের প্রায় ৮০ একর জমিতে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় আমিনবাজারে আরো ৮০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করতে চায় ডিএনসিসি। এ জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

তবে বর্জ্য নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপিত হলে সেখানে প্রতিদিন তিন হাজার টন ময়লা-আবর্জনা প্রয়োজন হবে। এই পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ প্লান্ট তৈরি হলে ঢাকা শহরের যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর থাকবে না। পাশাপাশি আমিনবাজার ল্যান্ড ফিল্ডেরও অতিরিক্ত জমির দরকার হবে না বলেও জানান মন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খাল থেকে প্রতিদিন বর্জ্য এবং কাদা তোলা হচ্ছে। এর পরিমাণও অনেক বেশি। এটা নিয়ে আমাদের একটু সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। খালের বর্জ্যটা আপাতত আমিনবাজার ল্যান্ড ফিল্ডেই ফেলা হবে। তবে বিপত্তিটা কাদা নিয়ে। প্রাথমিকভাবে এটা ল্যান্ড ফিল্ডেরই এক পাশে রাখা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা যদি এই ল্যান্ড ফিল্ডের জন্য আরো ৮০ একর জায়গা অধিগ্রহণ শেষ করতে পারি, তাহলে সমস্যাটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

এদিকে গত ২ জানুয়ারি খাল পরিষ্কার ও খালের পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। বাংলামোটরের পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে ধানমণ্ডির রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত দীর্ঘ বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাদের খাল পরিষ্কারের অভিযান। খালের বর্জ্য পরিষ্কারের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ডিএসসিসি পান্থপথ ও সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট থেকে এক হাজার ৬০০ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ডিএসসিসি ১০০ টন বর্জ্য অপসারণ করেছে কালভার্ট থেকে। এ ছাড়া জিরানী খাল থেকে এ পর্যন্ত অপসারিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার টন। তবে খাল থেকে এখনো বর্জ্য তোলার কাজ শেষ হয়নি ঢাকা দক্ষিণের। গত রবিবার থেকে মাণ্ডা খালের বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেছে তারা।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ডিএসসিসির খাল থেকে অপসারিত বর্জ্যের মোট পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৬০০ টন, যা ফেলা হচ্ছে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে। এই ল্যান্ড ফিল্ডের আয়তন ১৮১ একর। আগে এর আয়তন ছিল ১০০ একর। তবে ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে ২০২০ সালে এই ল্যান্ড ফিল্ডের জন্য নতুন করে আরো ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করে ডিএসসিসি, যার সময়সীমা ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে খাল থেকে তোলা বর্জ্য ফেলা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে না ঢাকা দক্ষিণকে।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর বদরুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খাল থেকে তোলা বর্জ্য নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা এই বর্জ্য সরাসরি ভাগাড়ে নিয়ে যাচ্ছি। ওখানে আমাদের নিজস্ব বিশাল জায়গা আছে। আগামী সাত-আট বছর পর্যন্ত আমরা সেখানে ময়লা ফেলতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা