kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

জমিতেই শুকাচ্ছে আখ

রংপুর চিনিকলে মাড়াই বন্ধ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জমিতেই শুকাচ্ছে আখ

গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অদূরদর্শিতার কারণে মিলজোন এলাকায় উৎপাদিত আখ নিয়ে বিপদে পড়েছেন চাষিরা। সরকারি নির্দেশনায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়া মাড়াই বন্ধ হওয়ায় রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনায় চাষ করা পাঁচ হাজার ২০০ একর জমির আখ জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ আখ পচে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কৃষকদের অভিযোগে জানা যায়, রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ অন্য চিনিকলে এসব আখ পাঠানোর ব্যবস্থা নিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আখ কাটার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আখ জমিতেই শুকিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকরা নিয়ম মেনে জমির আখ অন্য জায়গায় বিক্রি করতে পারছেন না। ধান বা অন্য ফসল চাষের প্রস্তুতি নেওয়ারও সুযোগ নেই। চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের দেওয়া ঋণের টাকা আদায় করে নেওয়ার জন্য সীমিত সংখ্যক আখ সরবরাহের অনুমতি দিলেও সেই আখও সঠিকভাবে নিতে পারছেন না। টাকা সংকটে অনেকেই বাধ্য হয়ে অবৈধ মাড়াইকলে গুড় তৈরি করছেন। কিন্তু তাতে আখের অর্ধেক দামও উঠছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চলতি বছর রংপুর চিনিকলের অধীন আটটি সাবজোন এলাকার ৪০টি ক্রয়কেন্দ্রের আওতায় ৫২ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর মাড়াই শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু গত ২ ডিসেম্বর হঠাৎ করে রংপুর চিনিকলসহ ছয়টি চিনিকলে আখ মাড়াই স্থগিতের চিঠি আসে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থার সদর দপ্তর থেকে। চিনিকলের লোকসানের বোঝা কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিলেও চিনিকল থেকে দেওয়া ঋণের টাকায় উৎপাদিত আখ সময়মতো ও সঠিকভাবে সংগ্রহের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আখ চাষি ও শ্রমিকরা অভিযোগ করে আসছেন।

এই সিদ্ধান্ত বাতিল বা পুনর্বিবেচনার জন্য তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেন। এর পরও শুধু পরিবহন খাতেই কয়েক গুণ বেশি টাকা ব্যয় করে জয়পুরহাট চিনিকলে আখ পাঠনোর সিদ্ধান্তে অটল থাকে কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট সময়ের ১৫ দিন পরে আখ সংগ্রহ শুরু করে বর্তমানে প্রতিদিন ৭০০ মেট্রিক টন আখ পাঠানোর কথা থাকলেও মাত্র দুই থেকে তিন শ মেট্রিক টন আখ পাঠানো হচ্ছে জয়পুরহাট চিনিকলে। এভাবে চললে চাষিদের জমির বেশির ভাগ আখ জমিতেই শুকিয়ে যাবে।

আখ চাষি নেতা আব্দুর রশিদ ধলু অভিযোগ করেন, শ্যামপুর ও জয়পুরহাট চিনিকলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সর্বাধিক মাড়াই ক্ষমতাসম্পন্ন কারখানা ও সর্বাধিক পরিমাণ আখ মজুদ থাকার পরও গাইবান্ধার রংপুর চিনিকলে রহস্যজনক কারণে বিএসএফআইসি মাড়াই বন্ধ করে। এতে শ্যামপুর থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার এবং রংপুর চিনিকল থেকে ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আখ পৌঁছাতে হবে জয়পুরহাট চিনিকলে। তিনি আরো বলেন, জয়পুরহাট চিনিকলে মাড়াই শুরুর এক মাস না পেরোতেই সেখানকার আখ প্রায় শেষ।

এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি না থাকায় রংপুর চিনিকল জোন এলাকায় এবার ১২০টি অবৈধ আখ মাড়াইকল কম দামে আখ কিনে গুড় মাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মহিমাগঞ্জের রংপুর চিনিকল মিলস গেট এলাকাতেই ১০ থেকে ১৫টি মাড়াইকল গুড় মাড়াই করছে।

রংপুর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, শ্রমিক ও পরিবহন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়েছে। একটি জমির আখও পড়ে থাকবে না। বর্তমানে পরিবহনে নিয়োজিত গাড়ির সঙ্গে জয়পুরহাট চিনিকলের ১০টি গাড়ি এনে এখন থেকে প্রতিদিন ৭০০ মেট্রিক টন আখ জয়পুরহাট চিনিকলে পাঠানো হবে। এতে দ্রুতই আখ সংগ্রহ ও পরিবহন শেষ হয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা