kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

ছিনতাইকারীদের নতুন টার্গেট ক্ষুদ্র সবজি বিক্রেতা

চক্রের ছয় সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছিনতাইকারীদের নতুন টার্গেট ক্ষুদ্র সবজি বিক্রেতা

রাজধানীর খুচরা সবজি বিক্রেতারা রাতে আড়ত থেকে সবজি কিনে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান। সকালে তাঁরা সেই সবজি বিক্রি করেন। এ জন্য রাতে তাঁদের আড়তে যেতে হয়। এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে নতুন কৌশলে ছিনতাই করছে একটি চক্র। ওই চক্রের সদস্যরা টার্গেট করা ব্যবসায়ীদের আড়তে নিয়ে যেতে তাঁদের গাড়িতে তোলেন। পরে চক্রের সদস্যরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এমন একটি চক্রের কবলে পড়ে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে বিমানবন্দর এলাকায় প্রাণ হারান দক্ষিণখান এলাকার সবজি বিক্রেতা আপন মিয়া। গত মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ ওই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন সজল, মুসা, বাচ্চু, সজীব, মুন্না ও সিদ্দিক। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহার করা একটি পিকআপ, চাকু, লুট করা সাত হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পাইকারি সবজির আড়ত বসে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাতে আড়ত থেকে সবজি কিনে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাত ১১-১২টার পর থেকে ভাড়া করা পিকআপ নিয়ে ছিনতাই করতে বের হয়। তারা আড়তে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে আড়তে নিয়ে যেতে সুকৌশলে তাদের গাড়িতে তোলে। এরপরই তারা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয়। এরপর চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।’

এ কে এম হাফিজ আরো বলেন, ‘গত ২৮ ডিসেম্বর আপন মিয়া ও তাঁর সঙ্গী নজরুল ইসলাম দক্ষিণখান থেকে কারওয়ান বাজারে আসছিলেন। তাঁরা বিমানবন্দর এলাকার কাওলা ফুট ওভারব্রিজের পূর্ব পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অজ্ঞাতপরিচয় ছিনতাইকারীরা পিকআপ ভ্যানে এসে কারওয়ান বাজার যাবে বলে যাত্রী ওঠান। আপন মিয়া ও তাঁর সঙ্গী ওই পিকআপে ওঠেন। ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পিকআপের পেছনে যাত্রীবেশে বসে থাকা ছিনতাইকারীরা আপন মিয়া ও তাঁর সঙ্গীর টাকাসহ মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এতে আপন মিয়া মারা যান। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশ চক্রটিকে শনাক্ত করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সেদিন আপন মিয়া ও নজরুল ইসলামকে পিকআপে তোলার পর চক্রের সদস্য মুসা ও রফিক তাঁদের বুকে চাকু ধরেন। এরপর পিকআপের সামনে বসা সজল পেছনে এসে টাকা ও মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেন। পরে তাঁদের ধাক্কা দিয়ে পিকআপ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা