kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

গ্যাস বিল প্রসঙ্গে সংসদে নসরুল হামিদ

বিতরণ কম্পানির বকেয়া ৯০১৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিতরণ কম্পানির বকেয়া ৯০১৯ কোটি টাকা

দেশের ছয়টি বিতরণ কম্পানির বকেয়া গ্যাস বিলের পরিমাণ ৯ হাজার ১৯ কোটি চার লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। সরকারি দলের সদস্য আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি গ্যাস বিল বকেয়া তিতাসের। তাদের বকেয়া বিলের পরিমাণ ছয় হাজার ৬৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাখরাবাদ গ্যাস কম্পানির ৬৯৬ কোটি ৮১ লাখ, কর্ণফুলীর ৮৪৪ কোটি ৯৫ লাখ, জালালাবাদের ৪৮৩ কোটি ৩২ লাখ, পঞ্চিমাঞ্চলের ১৯৫ কোটি ১৯ লাখ এবং সুন্দরবন গ্যাস কম্পানির ১২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বিল বকেয়া রয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী গত ১০ বছরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম লসের তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সিস্টেম লস প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এলেও এখন বাড়ছে। গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিস্টেম লস হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে, ৫.৭১ শতাংশ। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে ২ শতাংশ সিস্টেম লস হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আমদানিসহ গ্রিডভিত্তিক উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট, ক্যাপটিভ ২৮০০ মেগাওয়াট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ৩৮২ মেগাওয়াট।

তিনি আরো জানান, বর্তমান সরকার ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার ও ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৪ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪১টি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণাধীন। সেগুলো ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চালু হবে। মোট দুই হাজার ৮৯৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৮টি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন। আর ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিদ্যুেকন্দ্রগুলো ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে।

খুলনায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিল উত্থাপন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে খুলনায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় খুলনা বিল-২০২১’ সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটিকে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিলটি উত্থাপনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদকে জানান, অন্যান্য মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এই আইন করা হচ্ছে। খসড়া আইনে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, এখতিয়ার ও ক্ষমতার বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে পাঁচটি।

উত্থাপিত বিলে পরিদর্শন ও আর্থিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও কর্মচারীদের নিয়োগপ্রক্রিয়া, ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অনুষদ, বিভাগ, প্রয়োজনীয় কমিটি ও শৃঙ্খলা বোর্ড গঠন এবং এদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা