kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

১৯ জেলায় নিয়োগের নামে প্রতারণার জাল

থানা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র

রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী   

১৯ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৯ জেলায় নিয়োগের নামে প্রতারণার জাল

একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে একটি চক্র। সেই জালে পা দিয়েছেন ১৯ জেলার কয়েক হাজার বেকার। বিজ্ঞপ্তিতে চার ক্যাটাগরিতে ৫৮৪টি পদের বিপরীতে আবেদনের শেষ সময় উল্লেখ করা হয়েছে ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১২টা।

অনলাইনে আবেদন করতে বলা হলেও আবেদন করার পরপরই মোবাইল ফোনে কল করে প্রতারকরা নানা অজুহাত দিয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হিসাবে ৭৫০ টাকা করে দিতে বলছে। এতে অনেকেই এটাকে প্রতারকচক্রের ফাঁদ মনে করে টাকা পাঠাতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের থানা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেদারল্যান্ডসের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মা ও শিশু স্বাস্থ্য প্রকল্পে রাজশাহী, জয়পুরহাট, বগুড়া, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, পাবনা, রাজবাড়ীসহ ১৯ জেলায় থানা সমন্বয়কারী, ইউনিয়ন সুপারভাইজর, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর পদে মোট ৫৮৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর বিপরীতে আবেদনের শেষ সময় গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়ে।

এদিকে আবেদন জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ০১৮১৭৫৭৪০৭৯ নম্বর মোবাইল ফোন থেকে কল করে ৭৫০ টাকা পাঠাতে বলা হয়। তাতে সাড়া দিয়ে অনেকে সঙ্গে সঙ্গেই টাকা পাঠিয়ে দেন। তাঁদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কুরিয়ারে নিয়োগপত্রসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র পাঠানোর নামে ফোন করে ওই টাকা চাওয়া হয়। এরপর আমি টাকা দিয়েছি। সেই টাকা পাওয়ার পর নাকি নিয়োগপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আমার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু চাকরির জন্য কোনো পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এখন মনে হচ্ছে, প্রতারকচক্রের ফাঁদে পড়েছি।’

রাজশাহীর এ্যামিলি আক্তার নামের এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, ‘আমাকেও ফোন করে টাকা চাওয়া হয়েছিল। সন্দেহ হওয়ায় খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি যে প্রতারকচক্র এভাবে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা হাতানোর চেষ্টা করছে। এরপর টাকা দিইনি।’

এদিকে ওই মোবাইল নম্বরে ফোন করলে হাসান আলী নামের এক ব্যক্তি নিজেকে অফিসপ্রধান পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘খরচের জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছে। ১৮ তারিখ দুপুরের মধ্যে যারা টাকা দিবে, তাদের নিয়োগপত্রসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আমাদের গাড়িতে করে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অনেকের ঠিকানায় সেগুলো পাঠানোও হয়েছে। যারা টাকা দিবে না, তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে না।’ নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়েই কিভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হলো, কিভাবে বাছাই হলো, কতজন আবেদন করেছেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কে—এসব প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

এদিকে রাজশাহীর থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর সূত্র বলছে, এ ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিষয় তাদের জানা নেই। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের নিজ নিজ থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই নিয়োগ পরীক্ষা হবে বলে উল্লেখ করা হলেও সেটিও জানেন না কেউ।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘এ ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয় আমরা জানি না। এমন কোনো কর্মসূচিও নেই। এটি প্রতারকচক্রের কাজ বলেই মনে হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা