kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

শিকারির ফাঁদে হরিণ

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শিকারির ফাঁদে হরিণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুরে কীটনাশকযুক্ত সবজি খেয়ে মারা যাওয়া হরিণটি মাটিচাপা দিচ্ছেন বন বিভাগের কর্মীরা। ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে মিঠাপানি ও খাবারের সন্ধানে এসে শিকারির ফাঁদে পড়ে কিংবা কীটনাশকযুক্ত সবজি খেয়ে মারা পড়ছে বহু হরিণ। ফলে এখানকার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে এ রকম কিছু ঘটনার সত্যতা পেয়ে উদ্বিগ্ন বন কর্মকর্তারাও। ফলে হরিণ রক্ষায় উপকূলে পাহারা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের কয়েকটি ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকায় এখনো প্রচুর হরিণ বিচরণ করছে। এসব হরিণ রাতের অন্ধকারে শীতকালীন সবজি খেতে কিংবা মিঠা পানি পান করতে লোকালয়ে প্রবেশ করে। এদিকে হরিণ লোকালয়ে প্রবেশের সুযোগে এক শ্রেণির সুযোগসন্ধানী শিকারি হরিণ শিকারের নেশায় মেতে উঠেছে। তারা নানা রকম ফাঁদ পেতে রেখে হরিণ শিকার করছে। পরে আটক হরিণগুলো জবাই করে মাংস বিক্রি করছে।

এ ছাড়া লোকালয়ে গিয়ে কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেয়েও মারা পড়ছে বহু হরিণ। বিশেষ করে সৈয়দপুর, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ও বাঁশবাড়িয়া সাগর উপকূলে মাঝেমধ্যেই হরিণ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। সর্বশেষ গত ১৫ ডিসেম্বর একটি হরিণ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর এলাকায় সবজি খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় মারা যায় হরিণটি। খবর পেয়ে উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে গিয়ে হরিণটির মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরে পোস্টমর্টেম শেষে সেটি দাফন করা হয়।

সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, ‘আমাদের উপকূলীয় এলাকায় প্রচুর হরিণ আছে। এসব হরিণ এই শুকনো মৌসুমে মিঠা পানির সন্ধানে উপকূলে নেমে আসে। ফলে কখনো কখনো শিকারির ফাঁদে পড়ে তারা। আবার কখনো কখনো কৃষকের ক্ষেতের শাক-সবজি খেয়ে কীটনাশকের বিষক্রিয়ার শিকার হয়। সম্প্রতি এভাবে একটি হরিণ উপকূলে এসে মারা পড়েছে। পরে বন বিভাগ সেটির মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সুযোগসন্ধানী শিকারিদের পাহারা দেওয়া খুবই কঠিন কাজ। তবু আমরা উপকূলীয় কৃষকদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সভা করার চেষ্টা করছি। এটি করা গেলে হয়তো কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হবেন।’

সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় বন বিভাগের রেঞ্জ সহযোগী ফরেস্টার খন্দকার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘উপকূলে পানি ও সবজি খেতে এসে অনেক হরিণ মারা পড়ছে। এ জন্য উপকূলীয় এলাকায় একটি সভা করে এলাকাবাসীকে সচেতন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা