kalerkantho

সাকরাইন উৎসব

ঘুড়িতে রঙিন ঢাকার আকাশ

শম্পা বিশ্বাস   

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘুড়িতে রঙিন ঢাকার আকাশ

ধুলা, কুয়াশা বা ধোঁয়া নয়, ঢাকার আকাশজুড়ে কেবলই রঙের ছড়াছড়ি। নীল আকাশে উড়ছে রঙিন সব মাছ, হাতি ও ঘোড়া। কোথাও আবার লম্বা লেজ ঝোলানো রূপকথার গল্পের মৎস্যকন্যাকে দেখা যাচ্ছে দূর দিগন্তে। না, এটা কোনো গল্প নয়। পৌষের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে এভাবেই গতকাল বৃহস্পতিবার নানা রং আর আকারের ঘুড়ি উড়িয়ে সাকরাইন উৎসবে মেতে ওঠে রাজধানীবাসী।

দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাকরাইনের আয়োজন শুরু হয়। নানা রঙের হাজারো ঘুড়ি উড়তে থাকে আকাশে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ঘুড়ির সংখ্যা। ঢাকাজুড়ে এ উৎসবের আয়োজন থাকলেও মূলত পুরান ঢাকাই ছিল ঘুড়ি উৎসবের আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

নয়াবাজারের জিন্দাবাহার পার্ক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়ির ছাদে মানুষের মেলা বসেছে। নারী, শিশু, পুরুষ কিংবা ষাটোর্ধ্ব—সবার হাতেই ঘুড়ি আর নাটাই। কে কার ঘুড়ির সুতো কাটবে, সেই প্রতিযোগিতা চলছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে উৎসবের গতি বাড়ে। গান, আতশবাজি, পটকা আর আলোকসজ্জায় পুরান ঢাকা পরিণত হয় এক আনন্দমেলায়। আর বাড়ির ছাদগুলো পরিণত হয় মিনি রেস্টুরেন্টে। প্রতিটি ভবনের ছাদে দই ফুচকা, ডিম পুরি, হালিম, কার্ড ফুচকা, কালিজিরার জিলাপি, মাটির ভাড়ের চা, পিঠাসহ ছিল হরেক রকম আয়োজন।

আব্দুল রহিম নামে এক জিলাপির কারিগর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছোটবেলা মেলায় ঘুড়ি উড়াইছি। এখন বাচ্চাকাচ্চারা উড়ায়। দেইক্ষা মনডা ভালো লাগে।’ ঘুড়ি উৎসব দেখতে বনানী থেকে পুরান ঢাকার রায় সাহেবের বাজারে নানাবাড়িতে এসেছে ছোট্ট আদর মনি। আদর বলে, ‘আমি ঘুড়ি ওড়াতে পারি না। আমার হয়ে নানাভাই ঘুড়ি ওড়াচ্ছে। ভীষণ মজা লাগছে।’

পৌষকে বিদায় জানাতে সাকরাইন দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও এবার প্রথমবারের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এ উৎসবের আয়োজন করে। বিকেল ৩টায় ডিএসসিসি ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আরিফ হোসেন ছোটনের পাতলা খান লেনের বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়িয়ে সাকরাইনের উদ্বোধন করেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

ঘুড়ি ওড়াতে ওড়াতে মেয়র বলেন, ‘ছোটবেলায় অনেক ঘুড়ি উড়িয়েছি। সেই আনন্দকে আজকের শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন। এখন থেকে প্রতিবছর ডিএসসিসি সাকরাইন উৎসবের আয়োজন করবে।’ 

ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফ হোসেন ছোটন বলেন, ‘ডিএসসিসি সব সময়ই ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই সাকরাইন উৎসবের আয়োজন।’

উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকসহ অনেকেই এ সময় মেয়রের সঙ্গে নাটাই হাতে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে যায়। নাটাই হাতে পেয়ে যেন ফিরে যান শৈশবে। এ ছাড়া রাজধানীর লোহারপুল, নারিন্দা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, আব্দুল আলিম মাঠ, মুসলিমবাগ টাওয়ার মাঠসহ দক্ষিণ সিটির আরো অনেক মাঠে ডিএসসিসির কাউন্সিলরদের উদ্যোগে ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয় গতকাল।

মন্তব্য