kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জেনোসাইডের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে : ঢাকা

ফের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অজুহাত পাকিস্তানের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অজুহাত পাকিস্তানের

ত্রিপক্ষীয় চুক্তির (বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান) অজুহাত তুলে আবারও মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনোসাইডসহ সব ইস্যু নিষ্পত্তি হওয়ার দাবি তুলেছে পাকিস্তান। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি হস্তান্তর করেছেন। বাংলাদেশ বলে আসছে, একাত্তরে জেনোসাইডের জন্য পাকিস্তানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।

সাক্ষাতের পর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নীতি অনুসরণ করছে সরকার। তারই আলোকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে চায়। তবে এ ক্ষেত্রে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় জেনোসাইড সংঘটনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া শেষ করা, অবিভাজ্য সম্পদের বণ্টনসহ অনিষ্পন্ন ইস্যুগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার ওপর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের মাধ্যমে ওই দেশকে জেনোসাইডের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পাকিস্তানের কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবিও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাফটার (দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকা) আওতায় পাকিস্তানে বাংলাদেশের আরো পণ্যের প্রবেশাধিকার চান। এ ছাড়া তিনি বাণিজ্য বাধা দূর করে পণ্যের নিষিদ্ধ তালিকা কমানোর তাগিদ দেন। বর্তমানে উভয় দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পাকিস্তানের অনুকূলে রয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার উভয় দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দেন। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে একমত হয়েছেন উভয়েই। উভয় দেশের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছিল ২০১০ সালে। সেখানে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে জেনোসাইডের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া শেষ করা ও অবিভাজ্য সম্পদের বণ্টন—এই চারটি ঐতিহাসিক দাবি তুলেছিল।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতেও সম্পর্ক জোরদারে দেশটির আগ্রহের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির স্বাক্ষরিত কপি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের কথা উল্লেখ করে বলেছে, ওই চুক্তিতেই সব ইস্যু নিষ্পত্তি হয়েছিল। বিদ্যমান ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক আরো জোরদারে ওই চুক্তি ভিত্তি হিসেবে কাজ করা উচিত বলে পাকিস্তানের হাইকমিশনার মনে করেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান এরই মধ্যে বাংলাদেশিদের ওপর থেকে সব ধরনের ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দেয়। পাকিস্তান সে সময় ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অজুহাতে বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরোধিতা করেছিল। তবে বাংলাদেশ একে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বাংলাদেশ বলেছে, ১৯৭৪ সালের চুক্তি ছিল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি। সেখানে জেনোসাইড, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং পাকিস্তানের উচিত একাত্তরে বাংলাদেশে গুরুতর অপরাধে সম্পৃক্ত পাকিস্তানিদের বিচার করা। একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশ কাজ করছে। প্রতিবেশী ভারত এরই মধ্যে এ দেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকে জেনোসাইড হিসেবে উল্লেখ করেছে।



সাতদিনের সেরা