kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

ধর্মমেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণ মাদরাসা শিক্ষকের!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা এলাকার উম্মাহাতুল মোকমেনিন আদর্শ মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক মাওলানা আবুল মনসুর (৫৫)। তাঁর বিরুদ্ধে মাদরাসার এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ম মেয়ে বানিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মেয়েটির পরিবার বিচার চাইতে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

একই জেলার ময়মনসিংহের নান্দাইলে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে দোকানির বিরুদ্ধে। বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক মাদরাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মাদরাসাছাত্রের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। বগুড়ার ধুনটে একাধিক ব্যক্তির ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর সন্তানের পিতৃপরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্ষণে অভিযুক্ত আবুল মনসুর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারুন্দিয়া ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামের মো. বছির উদ্দিনের ছেলে। ১০ বছর আগে তিনি পাশের উচাখিলা বাজারের জমি কিনে বাড়ি করেন। বাড়ির সামনেই গড়ে তোলেন মাদরাসা। সেখানে কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি একাধিক শিক্ষক রেখে কোচিং ব্যবসাও করেন। শতাধিক শিক্ষার্থী মাদরাসাটিতে পড়াশোনা করে। এলাকাতেই দুটি বিয়ে করা আবুল মনসুর এক কিশোরীকে ধর্মমেয়ে বানান এবং পরে পরিবারের কাছে বলে কিশোরীকে নিজ খরচে মাদরাসায় রেখে পড়াশোনা করানোর দায়িত্ব নেন। একপর্যায়ে কিশোরী তাঁদের বাড়িতে চলে যায়। কিশোরীর মা জানান, মেয়ে আর মাদরাসায় যাবে না বলে মন খারাপ করে থাকে। কিছু বলে না। এ অবস্থায় একদিন মনসুর বাড়িতে এসে অনেক হাদিসের কথা বলে মেয়েকে নিয়ে যান। মাসখানেক পর মেয়ে আবার বাড়িতে চলে এসে জানায়, মনসুর বিভিন্ন শপথ করে তাকে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করে আসছেন এবং প্রতিবাদ করায় বিয়ে করবেন বলে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম মোতাব্বিরুল ইসলামকে জানালে তিনি তাঁর বাসায় গত শুক্রবার আবুল মনসুরকে ডেকে নেন। সেখানে মেয়েটি ধর্ষণের ঘটনার বর্ণনা দেয়। ঘটনাটি সালিসে মীমাংসার চেষ্টাও করা হয়।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘মেয়েটিকে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা মেলে হুজুরের জবানবন্দি থেকেই। কারণ তিনি ঘটনার জন্য বেশ কয়েকবার ক্ষমা চেয়েছেন। পরে মেয়েটির পরিবারকে থানায় যেতে বলা হয়েছে।’ এদিকে প্রভাবশালীদের চাপে গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনায় আবার সালিস বৈঠকে বসার তোড়জোড় চলে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. আবদুল কাদির মিয়া বলেন, তিনি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

মানসিক প্রতিবন্ধীকে নির্যাতন

নান্দাইলে গত শুক্রবার বিকেলে ধর্ষণে অভিযুক্ত মো. উজ্জল (৪০) উপজেলার কাশিনগর গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের ছেলে। গ্রামের কাটাখালী এলাকায় তাঁর দোকানে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় রাজগাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকন উদ্দিন গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠালেও কিছু লোক ভুক্তভোগী নারীকে থানায় নিতে বাধা দেয়। পরে চেয়ারম্যান থানার পুলিশকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নান্দাইল থানার ওসি বলেন, তিনি ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

মাদরাসাছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে মামলার আসামি সানাউল্লাহ (২০) উপজেলার বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলামের ছেলে ও প্রতিষ্ঠানটির দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। মামলার পর এলাকার প্রভাবশালীরা মেয়েটির অসহায় পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিতলমারী থানার ওসি মীর শরিফুল হক গতকাল জানান, আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি ষড়যন্ত্রমূলক।

ডিএনএ টেস্টে পিতৃপরিচয় শনাক্ত, অভিযোগপত্র

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষার সনদ অনুযায়ী রাকিব হোসেন (২৮) নামের এক পরিবহন শ্রমিক ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর সন্তানের বাবা। রাকিব উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের আবু তালেবের ছেলে।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা গতকাল এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বাবার করা মামলাটি প্রায় দুই বছর ধরে তদন্ত শেষে বগুড়া আদালতে বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলায় রাকিব হোসেন ও একই এলাকার অফফের আলীর ছেলে বকুল হোসেনকে (২৩) অভিযুক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ টেস্ট ও তদন্তে দোষী সাব্যস্ত না হওয়ায় এ মামলা থেকে স্কুলছাত্রীর এক আত্মীয়কে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামি রাকিব ও বকুল বগুড়া কারাগারে রয়েছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিরা]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা