kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

আ. লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন কলি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন কলি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নানা অপকর্ম করছেন সন্ত্রাসী গোলাম রসুল কলি। কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কলির বিরুদ্ধে জমি দখল, গ্যাস চুরি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। আর এসব অভিযোগে গতকাল তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন পৌর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতে গোলাম রসুল কলি গত বৃহস্পতিবার হামলা চালান পৌরসভা কার্যালয়ে। এ সময় কুপিয়ে জখম করে পৌরসভার কর্মচারীসহ বেশ কয়েকজনকে।

এলাকাবাসী জানায়, গোলাম রসুল কলি বিভিন্ন অপকর্ম করতে গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী বাহিনী। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ জানায় না। তাঁর ভাই ল্যাড়া নুরার নেতৃত্বে কলি বাহিনীর ২০-২৫ জন এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে প্রায়ই ডাকাতি করে। সন্ধ্যার পর কাঞ্চন হাইওয়ের পাশে নুরার ধানসিঁড়ি হোটেলে একত্রিত হতে থাকে ডাকাতদল। গভীর রাতে চলে পণ্যবাহী ট্রাকে ডাকাতি। কলির মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করেন মফিজ ওরফে ফেন্সি মাক্ষি, আলমগীর ও ইসলাম উদ্দিন। চট্টগ্রাম থেকে ট্রাকে ইয়াবার চালান আসে ধানসিঁড়ি হোটেলে। এখান থেকে ইয়াবার চালান শীতলক্ষ্যার নৌপথে চনপাড়া বস্তিতে পৌঁছে দেন মাক্ষি। সেখান থেকে রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ে ইয়াবা। কলির জমি দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন শিবির ক্যাডার মোমেন ও মতিউর। তাঁরা নিরীহ মানুষের জমিতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাতারাতি নিজেদের জমি বানিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া মাসোহারা ভিত্তিতে স্থানীয় আবাসন শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করেন চাঁদা। কলি বাহিনীর প্রধান হিসেবে আছেন কাইল্যা রবিউল। তাঁর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন দেওয়ান নবিউর, শান্ত ও মঞ্জু। টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন কলি নিজেই। বিভিন্ন উন্নয়নকাজের টেন্ডার থেকে ৫ শতাংশ তাঁকে চাঁদা হিসেবে দিতে হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় কাঞ্চন পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবর ভূইয়ার ওপর হামলা ও পৌরসভায় ভাঙচুর চালিয়ে আলোচনায় আসেন কলি। তাঁর ডাইং মিলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। প্রতি মাসে কলি অন্তত ১৫ লাখ টাকার গ্যাস চুরি করেন। গত বৃহস্পতিবার কাঞ্চন পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে পৌরসভায় হামলা চালানো হয় কলির নেতৃত্বে। এ সময় মাসুদ, শাহিন মিয়া, আনোয়ার, লোহা শাহিন, আলী হোসেন, রাব্বানীসহ সাতজনকে কুপিয়ে জখম করে তারা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণ নিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পৌর মেয়রের।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঞ্চন পৌরসভা একসময় বিএনপির ঘাঁটি ছিল। বর্তমান পৌর মেয়র ও পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে এখানে সুসংগঠিত হয় আওয়ামী লীগ। দলের সব নেতাকর্মী রফিকুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিলেও বিএনপির আমলে দায়িত্ব পাওয়া কলি সেখানে তাঁর একক শাসন কায়েমের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন অবৈধ সাম্রাজ্য। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দাবি তুলেছেন, তাঁকে যেন দল থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা