kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সবজির দাম কমলেও উল্টো চিত্র চাল-তেলে

চালের সঙ্গে ঊর্ধ্বগতিতে রয়েছে ভোজ্য তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবজির দাম কমলেও উল্টো চিত্র চাল-তেলে

শাক-সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় আরো কিছুটা কমেছে। কমেছে ডিম, পোল্ট্রি মুরগি ও কিছু মাছের দামও। তবে চাল, ডাল, তেলের বাজার ছুটছে উল্টো গতিতে। আমন মৌসুমে চালের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও বাড়ছে মাঝারি ও সরু চালের দাম। তেলের দাম তো বাড়ছে কয়েক সপ্তাহ ধরেই। মসুর ডালের দামও বেড়েছে কিছুটা।

এদিকে দেশের বাজারগুলোতে পেঁয়াজের ধরন বাড়ছে। আগে চার ধরনের পেঁয়াজ পাওয়া গেলেও নতুন যোগ হয়েছে মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজের মতো দেখতে মিয়ানমারের পেঁয়াজও আসছে বাজারগুলোতে। রাজধানীর মানিকনগর, মুগদা, মালিবাগসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। মুলার কেজি ছিল ২০ টাকার মতো। প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে আগের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমে। এখন ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। শালগমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বড় একটা লাউ মিলছে ৪০ টাকাতেই। প্রতি কেজি গাজরের দাম নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। আলুর কেজি এখনো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। প্রতি কেজি নতুন আলু কিনতে লাগছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

বাজারে এখন ছয় ধরনের পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম দেশি পুরনো পেঁয়াজের, ৬৫-৭০ টাকা। মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া আমদানির সব পেঁয়াজই ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের এই দাম আগের সপ্তাহেও একই ছিল। রসুনের দামও আগের মতো ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আদার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

বাজারে আমন চাল নেমেছে সপ্তাহ দুয়েক হলো। এতে মোটা চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা কমলেও বিপরীত চিত্র সরু ও মাঝারি মানের চালে। গতকাল রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরায় মানভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৫৬ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চাল বিআর আটাশ, লতা ও পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি সরু চাল ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা, মাঝারি চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ছিল। দোকানিরা বলছেন, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা মিনিকেট দুই হাজার ৮৫০ টাকা করে পাইকারিতে কিনতে হচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও তা দুই হাজার ৭০০ টাকায় কেনা যেত। ফলে বর্তমানে খুচরায় মিনকেট চালের কেজি পড়ছে ৬০ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কয়েক দিন ধরে বাজারে চালের দাম বাড়ছে। মিলগেটে প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। সে হিসাবে কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা। তবে স্বর্ণাসহ মোটা চালগুলো আগে ৪৫ টাকার নিচে পাওয়া যেত না। এখন ৪২ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। মানভেদে মোটা চলের দাম ৪২ থেকে ৪৫ টাকা কেজি।

চালের সঙ্গে ঊর্ধ্বগতিতে রয়েছে ভোজ্য তেলের দাম। বাজারে এখন খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১০৭-১০৮ টাকা কেজি। পাম সুপার ১০০ থেকে ১০২ টাকা আর খোলা পাম বিক্রি হচ্ছে ৯২ থেকে ৯৪ টাকা কেজি। অথচ গত বছর এ সময় সয়াবিনের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। খোলা পাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। খোলা সয়াবিনের সঙ্গে সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়িয়েছে কম্পানিগুলো। আগে পাঁচ লিটারের বোতল ছিল ৫৫৫ থেকে ৫৭০ টাকা। নতুন দাম ৫৮০ থেকে ৬২৫ টাকা। এক লিটারের সয়াবিনের নতুন দাম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, যা আগে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

বড় দানার মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও ছোট দানার ১০০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি। গত বছর এ সময় বড় দানার মসুর ডাল ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

ডিমের দাম আরো কমেছে। ফার্মের মুরগির ডিম মিলছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ডজন। গত সপ্তাহে তা ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১১০ থেকে ১২৫ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা