kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ মাঘ ১৪২৭। ২১ জানুয়ারি ২০২১। ৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নবজাতক বরণ

জন্মের ১০ দিনের মধ্যে শিশুকে দেওয়া হয় জন্ম সনদ ও উপহার

মোখলেছুর রহমান মনির, ভালুকা (ময়মনসিংহ)   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের ইউনিয়নে ধনী, দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে কোনো পরিবারে নবজাতকের আগমন সংবাদের ১০ দিনের মধ্যে ফুল, মিষ্টি ও উপহারসামগ্রী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন তিনি। নবজাতককে ফুল ও উপহার দিয়ে ইউনিয়নের নাগরিক (সিটিজেন) হিসেবে বরণ করে নেন আর নবজাতকের মা-বাবাকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে পৌঁছে দেন নবজাতকের জন্ম সনদ।

তিনি হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১১ নম্বর রাজৈ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাদশাহ। ব্যক্তি উদ্যোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিয়নে ‘নাগরিক বরণ’ নামক এই বিরল কর্মসূচি শুরু করেছেন তিনি। উদ্দেশ্য, সরকারি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিক বয়সে সব নবজাতকের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করে সরকারকে সহায়তা করা। প্রথম দিকে স্থানীয়দের অনেকেই এই কর্মসূচিকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখলেও এখন তাঁরাই প্রশংসা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে বিনা ফিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনে সরকারি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের মাঝে শিশুর জন্ম নিবন্ধনে আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। তবে বিদ্যালয়ে ভর্তির প্রয়োজনে মা-বাবারা সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করিয়ে সনদ নেওয়ার জন্য ছুটে আসতেন পরিষদে। তত দিনে সংশ্লিষ্ট শিশুর বয়স পাঁচ-ছয় বছর হয়ে যায়। তখন নানা কারণে চেয়ারম্যানকে অনুমাননির্ভর তারিখে হলেও নিবন্ধন করে সনদ দিতে হয়। আর যেসব শিশু স্কুল-মাদরাসায় ভর্তি হতো না, তারা থেকে যেত নিবন্ধনের বাইরে। পরে চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাদশাহ ইউনিয়নে ‘নাগরিক বরণ’ কর্মসূচি শুরু করলে আশাতীতভাবে বেড়েছে শিশু জন্ম নিবন্ধনের হার (এরই মধ্যে শতাধিক)। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পুরস্কৃতও হয়েছেন বাদশা।

কুল্লাব গ্রামের মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, ‘আমার দ্বিতীয় সন্তানের বয়স প্রায় এক মাস। তার জন্মের ছয়-সাত দিনের মথ্যেই চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাদশাহ বাচ্চার গায়ের জামা, ফুল ও মিষ্টি হাতে আমার বাড়িতে হাজির হন। আমার সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের সনদও দিয়ে গেছেন। আমরা চেয়ারম্যানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’ তিনি জানান, তাঁর আট বছর বয়সী বড় মেয়ে কুল্লাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। শিশুটির জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছে স্কুলে ভর্তি করানোর সময়।

স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ‘কারো বাচ্চা জন্ম নেওয়ার খবরে চেয়ারম্যানের ফুল, মিষ্টি আর উপহার নিয়ে যাওয়াকে শুরুর দিকে আমরা অতি-উৎসাহ বলে সমালোচনা করতাম। এখন দেখছি সঠিক সময়ে শিশুর জন্ম নিবন্ধনের জন্য তাঁর উদ্যোগটি যথাযথ।’

ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বাদশাহ বলেন, ‘কোনো শিশু যাতে ভুল জন্ম তারিখ নিয়ে বেড়ে না ওঠে, নিবন্ধনের বাইরে না থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক সনদ রোধে সরকারকে সহায়তা করার জন্যেই আমার এই উদ্যোগ।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা