kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বঙ্গবন্ধু কর্নার হচ্ছে ১০০০ পাঠাগারে

আগামী জুনের মধ্যেই বাস্তবায়ন

আজিজুল পারভেজ   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের এক হাজার পাঠাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ উদ্যোগ নিয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর। চলতি অর্থবছরেই অর্থাৎ আগামী জুনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এক হাজার পাঠাগারের মধ্যে রয়েছে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের আওতাধীন ৭১টি সরকারি গণগ্রন্থাগার, ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারের পাঠাগার, ৬৮টি জেলা কারাগারের পাঠাগার এবং ৮৬১টি বেসরকারি পাঠাগার। প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছে ২২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এর মধ্যে আসবাব কেনার জন্য ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বই কেনার জন্য পাঁচ কোটি টাকা এবং সাজসজ্জার জন্য দুই কোটি টাকা রাখা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের জন্য প্রতিটি পাঠাগারে চারটি করে স্টিলের বুকশেলফ দেওয়া হবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকার। কর্নারের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের জন্য দেওয়া হবে ২০ হাজার টাকা।

বইয়ের জন্য বরাদ্দ বাজেট দিয়ে প্রতিটি বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য ২০০ বই সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। সংগ্রহ করা হবে ২০১৮-১৯ সালে প্রকাশিত বই।

বই নির্বাচনের জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হওয়ার কথা। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক, বাংলা একাডেমির একজন পরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দুজন বঙ্গবন্ধু অধ্যাপকসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কমিটি হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে প্রকাশনাশিল্প ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশনা ব্যবসাকে সচল রাখার জন্য এবং জাতির পিতার জন্মশতবর্ষের স্মারক হিসেবে দেশের পাঠাগারগুলোতে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপনের প্রস্তাবটি প্রকাশকদের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছিল। সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরকে দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট প্রকাশক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক খান মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার কারণে যেখানে মুজিব জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানমালা হতে পারেনি, সেখানে দেশের পাঠাগারগুলোতে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন একটি সফল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে। নতুন প্রজন্মকে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানানোর ক্ষেত্রে এটি একটি ভালো ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি দুঃসময় পার করা দেশের সৃজনশীল প্রকাশকরাও এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন।

সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান হরেন্দ্র নাথ বসু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্প অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র এখনো আমরা পাইনি। কাগজপত্র চলে এলে এ মাসের মধ্যেই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা