kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

খাগড়াছড়ি বরিশাল ও খুলনা

তিন হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিন হত্যা মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

খাগড়াছড়ির গুইমারায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী ও তাঁর চার সহযোগীকে ফাঁসির দণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বরিশালে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় এক আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনায় হ্যাচারিকর্মী হত্যায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার এসব মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

গুইমারা উপজেলায় প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ রেজা মো. আলমগীর হাসান মামলার রায় ঘোষণা করেন। এক আসামি ছাড়া সবাই আদালতে হাজির ছিলেন। দণ্ডিতরা হলেন গুইমারা উপজেলার রেনুছড়া গ্রামের নিহত মমিনুল হকের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (৩৫), রামগড় উপজেলার চৌধুরীপাড়ার মো. মানিক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৪), একই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ফিরোজ (২৮), গুইমারার রেনুছড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. আবুল কালাম (২২) এবং একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. আবুল আসাদ ওরফে মিঠু (২০)।

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিধান কানুনগো জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পরকীয়ার জের ধরে রাবেয়া আক্তার অন্য আসামিদের টাকা দিয়ে গুইমারার রবীন্দ্রপাড়ায় তাঁর স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করান। লাশটি অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে উদ্ধারের এক দিন পর গুইমারা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। রায়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আরিফ উদ্দিন।

বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালু বরিশাল নগরের এয়ারপোর্ট থানাধীন কাশিপুরের গণপাড়া এলাকার মৃত ওয়াহাব খানের ছেলে। আদালতের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি ফয়জুল হক ফয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী রায়। আট বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের অপরাধে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, অপহরণের ঘটনায় যাবজ্জীবন এবং লাশ গুমের ঘটনায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দেড় লাখ টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নগরের পূর্ব গণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ২০১৮ সালের ১১ মার্চ বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয়ের শৌচাগার বন্ধ থাকায় সে পার্শ্ববর্তী কালুর বাড়ির শৌচাগারে যায়। বাড়িতে একাই থাকা কালু শিশুটিকে অপহরণ করে ধর্ষণ করেন। এরপর তাকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে এলাকার হালিম মাস্টারের বাড়ির কবরস্থানে ফেলে রাখেন। দুই দিন পর সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা আসামির নাম উল্লেখ করে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেন।

খুলনায় ২০১৫ সালে হ্যাচারিকর্মী গৌতম গোবিন্দ সানা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বিবেক মণ্ডল, সৌগত রায় ও অরুণাভ রায়। খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত তিনজনই পলাতক। দাকোপ উপজেলার বেসরকারি শ্রী অ্যাগ্রো লিমিটেডের কর্মী গৌতম পানখালী ইউনিয়নের বাংইখালী গ্রামের মৃত ধনঞ্জয় সানার ছেলে।

আদালতে মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গৌতমকে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২১ নভেম্বর দুপুর ২টার মধ্যে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর গলায় ও কোমরে ইট বেঁধে ঢাকি নদীতে ফেলে দেন দুর্বৃত্তরা। ২২ নভেম্বর সকালে পুলিশ নদীর জালিয়াখালী চর থেকে ভাসমান অবস্থায় গৌতমের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই কৃষ্ণপদ সানা।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র খুলনা অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল এবং খাগড়াছড়ি ও গুইমারা প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা