kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সম্পত্তির জন্য সৎমাকে হত্যা করে নাহিদ

আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ২০ ঘণ্টায় ছয় আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সম্পত্তির জন্য সৎমাকে হত্যা করে নাহিদ

মায়ের মৃত্যুর পর বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সৎমায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল প্রথম পক্ষের ছেলের, কিন্তু স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির কথায় তৈরি হয় অবিশ্বাস ও সন্দেহ। ছেলের ধারণা জন্মায়, বাবার সম্পত্তি দখল করবেন সৎমা। পারিবারিক এমন টানাপড়েনে ছেলে বাবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পারিবারিক বৈঠকে বাবা ছেলেকে তাঁর সঙ্গে থাকতে অনুরোধ করে মাসে ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এতেও সন্দেহ দূর হয় না ছেলের। লেগেই থাকে ঝগড়া, বাগবিতণ্ডা। একপর্যায়ে ‘পথের কাঁটা’ সৎমাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন পাষণ্ড ছেলে। হত্যার পর লাশে গ্যাসের চুলা থেকে কাপড় দিয়ে আগুনও ধরিয়ে দেন। পরে সবাই মিলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু অপরাধবোধ থেকে পরে সেই ছেলে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় কাপড় বেঁধে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

রাজধানীর কাফরুলের বাইশটেক ইমামনগর এলাকায় গত রবিবার গৃহবধূ সীমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের পর এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর গতকাল সোমবার সেছলে এস এম আশিকুর রহমান নাহিদ ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত রবিবার রাত থেকে গতকাল ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নাহিদসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা অন্যরা হলেন নাহিদের স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা আইরিন, শ্বশুর আসেক উল্লা, শাশুড়ি রোকেয়া বেগম, বাবা (সীমার স্বামী) শাহজাহান শিকদার এবং নাহিদের শ্যালক সাকিব। আদালতের নির্দেশে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বাবার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নাহিদ ছুরিকাঘাতে সৎমা সীমাকে হত্যা করে নিথর শরীরে গ্যাসের চুলা থেকে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ঘটনায় অন্য আসামিরাও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে মিলেছে।

কাফরুল থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর আগুন দেওয়ার আলামত মিলেছে।  গতকাল ভোরে উত্তরখান থানা এলাকা থেকে নাহিদকে এবং কাফরুলের ইমামনগর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্য পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সীমা আক্তারের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ডাংগা দুর্গাপুর গ্রামে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য