kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মেয়র আনিসুলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ

গতি হারিয়েছে স্বপ্নদ্রষ্টার শুভ উদ্যোগ

শম্পা বিশ্বাস   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গতি হারিয়েছে স্বপ্নদ্রষ্টার শুভ উদ্যোগ

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সাতরাস্তা এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দখলমুক্ত করেছিলেন ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আনিসুল হক। ফের ট্রাকস্ট্যান্ডের রূপ পেয়েছে সড়কটি। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘শুক্রবারে জিয়ারত করতে গিয়ে দেখি, এক ব্যক্তি মাত্রই আমার বাবার কবর জিয়ারত শেষ করেছেন। জানালেন, তিনি চট্টগ্রামের একজন ব্যবসায়ী। ঢাকায় এসেছেন একটা কাজে। বাবার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক বা আলাপ ছিল না। একজন অপরিচিত মানুষ শুধু ভালোবাসা থেকে আমার বাবার কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। সন্তান হিসেবে আমার কাছে এটি অনেক বড় পাওয়া।’

কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হক। রাজধানী ঢাকাকে বদলে দেয়ার প্রত্যয়ে ২০১৫ সালের ৬ মে ডিএনসিসির প্রথম মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আনিসুল হক। স্বপ্ন ছিল সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার। সে লক্ষ্যে নানা উদ্যোগও নিয়েছিলেন। মস্তিষ্কে রক্তনালির প্রদাহে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের আজকের দিনটিতে মারা যান তিলোত্তমা ঢাকার এই স্বপ্নদ্রষ্টা। সে হিসাবে আজ ৩০ নভেম্বর তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

আনিসুল হকের মৃত্যুর পর তাঁর নেওয়া সব উদ্যোগই স্থবির হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু উদ্যোগ চালু থাকলেও তা চলছে কচ্ছপগতিতে। ‘নগর’ অ্যাপ সেবা কার্যক্রম এখন বন্ধ। নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু হয়নি বনানীর ফুড কোর্ট। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুড কোর্টে অস্থায়ীভাবে কিছু দোকানপাট বসেছে। কয়েকজন দোকানি জানালেন, দিনে দোকান বসলেও রাতে এখানে বসে মদ-গাঁজার আসর।

তেজগাঁওয়ে সাতরাস্তা এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দখলমুক্ত করেছিলেন মেয়র আনিসুল। তবে গতকাল রবিবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা দখল করে আছে বেশ কয়েকটি ট্রাক ও পিকআপ।

মেয়র আনিসুল হকের আরেকটি বড় উদ্যোগ ছিল রাজধানীকে পোস্টার ও ব্যানারমুক্ত করা। উদ্দেশ্য ছিল, নগরবাসীকে মুক্ত আকাশ দেখার সুযোগ করে দেওয়া। এই উদ্যোগ তিনি অনেকটা এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ঢাকা শহরে আবার ফিরে এসেছে অপরিকল্পিত ব্যানার আর সাইনবোর্ড।

মেয়র আনিসুলের নেওয়া সবুজায়ন প্রকল্পে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাগানো হয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার গাছ। সেগুলোর অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। কাকলী থেকে বনানী সড়ক বিভাজকের মাঝে লাগানো গাছগুলো অযত্ন-অবহেলার মাঝেও এখনো বেঁচে আছে। কোথাও কোথাও কংক্রিটের টব থাকলেও গাছ নেই। কাকলী থেকে বনানী যেতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উন্নয়নকাজের কারণে সড়কের পাশের সব গাছ কাটা পড়েছে। উত্তরাজুড়ে লাগানো ৩০ হাজার গাছের মধ্যে বেশির ভাগই মরে গেছে। যত্নের অভাবে বাকিগুলোও ধুঁকছে।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন অবশ্য আশার কথা শোনালেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, “প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ১ জানুয়ারি থেকে তিনটি কার্যক্রম চালু করছি। এক. শহরে ১ জানুয়ারি থেকে প্রাথমিকভাবে সাত থেকে আট হাজার এলইডি লাইট স্থাপন করা হবে। বছরজুড়ে মোট সাড়ে ৪২ হাজার লাইট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই. বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম ‘সবার ঢাকা’ নামে একটি অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছেন নাগরিক সেবার জন্য এবং তিন. তেজগাঁও থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত ১১টি ইউ লুপ ১ জানুয়ারি খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটা রাজধানীর যানজট নিরসনে কাজে আসবে।”

আনিসুল হক ১৯৫২ সালে নোয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপ। বর্তমানে তাঁর ছেলে নাভিদুল হক এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

নাভিদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মারা যাওয়ার আগের দিনও বাবা আমাকে বলছিলেন—আমার জীবনে কোনো আফসোস নেই। সবচেয়ে বড় কথা, আমি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমার জীবনে আর কোনো অপূর্ণতা নেই। মেয়র হিসেবে আমার বাবার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল আজও নগরবাসী ভোগ করছে। এটা দেখে তাঁর সন্তান হিসেবে গর্ব অনুভব করি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা