kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পৃথক সংস্থার প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির

নিখিল ভদ্র   

২৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পৃথক সংস্থার প্রস্তাব সংসদীয় কমিটির

চাকরিতে প্রবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট (বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর জন্য দেশজুড়ে ল্যাব (পরীক্ষাগার) বাসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কাজের সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) আদলে পৃথক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। কমিটির প্রস্তাব আমলে নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। মাদকসংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ২০১৮ সালের আইনের সংশোধনী গত সংসদ অধিবেশনে পাস হয়েছে। এর আগে সংসদীয় কমিটির সুপারিশে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারি চাকরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫৭টি ডিভিশনের শতাধিক পুলিশ সদস্যের নমুনা পরীক্ষার পর পজিটিভ হওয়া ৫০ জনের মাদক গ্রহণ ও কারবারে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দেশজুড়ে ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। ডোপ টেস্ট করতে জেলা পর্যায়ে মিনিল্যাব বসানো হবে। প্রাথমিকভাবে ২১টি জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এসব জেলায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে (ডিএনসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডোপ টেস্ট কার্যক্রমের সমন্বয় ও স্বচ্ছতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা। মাদকাসক্তদের চিহ্নিত করতে ডোপ টেস্ট বা বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) আদলে পৃথক একটি সংস্থা গঠনের সুপারিশ করা হয়। সংস্থার নাম হিসেবে বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিডিটিআই) অথবা বাংলাদেশ ইললিগ্যাল ড্রাগ ইউজার টেস্টিং অথরিটি (বিআইডিইউটিএ) প্রস্তাব করা হয়। ওই বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ অন্যান্য যেসব দপ্তর ডোপ টেস্ট বা বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করেনি, সেসব দপ্তরে আবার চিঠি পাঠাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব বিষয়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। গত ১১ নভেম্বর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে, চাকরির আগেই নয়, পরেও ডোপ টেস্ট করা হবে। এর জন্য একটি পৃথক ইনস্টিটিউট গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ওই ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সরকারি চাকরি ছাড়াও বেসরকারি চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যালে ভর্তিপ্রত্যাশীদের ডোপ টেস্ট করানো হবে। সন্দেহভাজন যে কাউকে ডোপ টেস্ট করিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে সংস্থাটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামসুল হক টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে মাদক নির্মূলে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য বিএসটিআইর আদলে একটি ইনস্টিটিউট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে এবং কার্যক্রম শুরু করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএসটিআই যেমন যেকোনো সময়, যেকোনো পণ্য যাচাই করতে বাজারে ঢুকে পড়তে পারে, তেমনি ওই প্রতিষ্ঠানটিও ডোপ টেস্টের জন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে এবং সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। পুলিশের মতো সব প্রতিষ্ঠানে ডোপ টেস্ট চালু করা গেলে জাতিকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য