kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পদ্মা সেতুতে বসল ৩৯তম স্প্যান

আর মাত্র দুটি স্প্যানে এপার ওপারে মিলন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি    

২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর মাত্র দুটি স্প্যানে এপার ওপারে মিলন

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশে গতকাল ১০ ও ১১ নম্বর পিয়ারে বসানো হয় পদ্মা সেতুর ৩৯তম স্প্যান। ছবি : কালের কণ্ঠ

পদ্মা সেতুতে বসানো হয়েছে ৩৯তম স্প্যান। এর ফলে দৃশ্যমান হলো সেতুর পাঁচ হাজার ৮৫০ মিটার অবকাঠামো। ৪১ স্প্যানের সম্পূর্ণ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হতে আর মাত্র দুটি স্প্যান বসানো বাকি। অর্থাৎ আর মাত্র ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যান বসলেই ছয় হাজার ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সম্পূর্ণ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে। আগামী ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই ওই দুটি স্প্যান পিয়ারের (খুঁটি) ওপর বসিয়ে পদ্মার এপারের সঙ্গে ওপারকে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা সেতু কর্তৃপক্ষের।

গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া অংশে ১০ ও ১১ পিয়ারে বসানো হয় ৩৯তম স্প্যানটি। ৩৮তম স্প্যান বসানোর সাত দিনের মাথায় এই স্প্যান বসানো হলো। চলতি মাসে সব মিলিয়ে বসানো হয়েছে চারটি স্প্যান। 

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আ. কাদের জানান, গতকাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে লৌহজংয়ের কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেন তিয়াইন-ই ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩৯তম স্প্যানটি নিয়ে নির্ধারিত পিলারের উদ্দেশে রওনা হয়। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্ধারিত পিলার দুটির কাছে পৌঁছে স্প্যানবাহী ক্রেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে নির্ধারিত পিলার দুটির ওপরে ভূমিকম্প সহনশীল বিয়ারিংয়ে স্প্যানটি বাসানো সম্পন্ন হয়। ডিসেম্বর মাসে ১১ ও ১২ নম্বর পিয়ারে ৪০তম স্প্যান ‘২-ই’ এবং ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে ৪১তম স্প্যান ‘২-এফ’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রকৌশলীদের।

এদিকে স্প্যান বাসানো ছাড়াও অন্যান্য কাজ এগিয়ে চলছে। এর মধ্যে সেতুতে এক হাজার ৮৪৮টি রেলওয়ে এবং এক হাজার ২৩৮টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিয়াতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর একে একে বসানো হয় ৩৯টি স্প্যান।

মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি (এমবিইসি) এবং নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী বছরই তা খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা