kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১০ মাসে ধর্ষণের শিকার ১০৮৬

পারিবারিক সহিংসতা সাড়ে ৩৭ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০ মাসে ধর্ষণের শিকার ১০৮৬

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক হাজার ৮৬ জন নারী ও শিশু। এর মধ্যে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৭৭ জন। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫০ জনকে। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে ২৯ জন। ‘নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি সহিংসতা মোকাবেলায় তৃণমূল সংগঠনের সাড়া ও উদ্যোগ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

করোনা মহামারিতে নারী ও শিশুর ওপর নির্যাতন বেড়েছে বলে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এমজেএফের তথ্য মতে, গত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিভিন্ন জেলায় ৩৭ হাজার ৯১২ জন নারী ও শিশু পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৪২৭ জন নারী ও শিশু আগে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। গত ১০ মাসে নতুন করে সহিংসতার শিকার হয়েছে ১৬ হাজার ৪৮৫ জন। নতুন করে সহিংসতার শিকার হওয়া নারী ও শিশুরা এর আগে কখনোই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়নি। নিজেদের কর্ম এলাকায় টেলিফোনের মাধ্যমে পরিচালিত জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এমজেএফ।

পারিবারিক সহিংসতার মধ্যে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে ১৭ হাজার ৫৫৭ জনকে। অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয় ১১ হাজার ৮৪১ জন। শারীরিক নিপীড়নের শিকার হয় সাত হাজার ৫৬২ জন। আর যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৯৫২ জন নারী। তবে সহিংসতার শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে বেশির ভাগই তাদের বাবা, মা ও পরিবারের অন্যদের দ্বারাই হয়েছে। গত ১০ মাসে বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে ৯৩৫ জন শিশু। এমজেএফের সহযোগী সংগঠনগুলো গত ১০ মাসে মোট ৭১৩টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পেরেছে বলে জানানো হয়।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন নাসিমা বেগম এনডিসি বিভিন্ন নারী নির্যাতনের কথা তুলে ধরে জানান, সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি নারীদের শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বাল্যবিয়ে নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনের কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) বাংলাদেশবিষয়ক কর্মকর্তা জুডিথ হারবার্টসন বলেন, ‘আমরা নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতাকে মনে করি আরেকটি মহামারি হিসেবে, যার শিকড় প্রোথিত সমাজে নারী ও পুরুষের মধ্যে অসম ক্ষমতা ভাগাভাগির মধ্যে। আর এই বৈষম্য ও নির্যাতন জোরদার হয় সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ক্ষতিকর নিয়মের কারণে।’

সভাপতির বক্তব্যে এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘যখন দেশব্যাপী নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে, তখন সেখানে সামাজিক আন্দোলনও বাড়ছে। সেই সঙ্গে আছে নাগরিক সমাজ, সরকার ও তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের বিভিন্ন কার্যক্রম। যেসব সংস্থা নারীর প্রতি সহিংসতা রোধকল্পে কাজ করছে যেমন স্বাস্থ্যসেবা, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থাকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। আমরা চাই সব সেক্টরের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা। সবচেয়ে বড় কথা—নারীদের মর্যাদা দিতে হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের নারীর প্রতি সহিংসতাবিষয়ক (মাল্টিসেক্টরাল) প্রকল্পের পরিচালক ড. আবুল হোসেন এবং অ্যাসিসট্যান্ট ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সাহেলি ফেরদৌস পিপিএম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ‘ভার্চুয়াল কোর্ট অডিন্যান্স’-এর মাধ্যমে যেন বাধা ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা যায়, এ জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলা হয় ওয়েবিনারের সুপারিশমালায়।

 

মন্তব্য