kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

ডেঙ্গু চিকিৎসায় ‘এলট্রোম্বোপ্যাগ’

প্রাথমিক সাফল্যের পর তৃতীয় ধাপের গবেষণার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এডিস মশাবাহিত প্রাণঘাতী ডেঙ্গু জ্বরে রক্তের প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকাস্বল্পতা নিরাময়ে এলট্রোম্বোপ্যাগ নামের একটি ওষুধ প্রয়োগে কার্যকারিতা পাওয়ার প্রাথমিক সাফল্যের পর তৃতীয় ধাপের গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশের গবেষকদলটি। 

সম্প্রতি বাংলাদেশের এই গবেষকদলের সাফল্যের খবর প্রকাশ হয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নন্দিত সাময়িকী ল্যানসেটে। গবেষকদলের সদস্যরা আশা করছেন, এটির চূড়ান্ত সাফল্য পেলে দেশে ও বিদেশে ডেঙ্গু চিকিৎসায় নতুন একটি মাইলফলক তৈরি হবে।

ওষুধটি নিয়ে কাজ করা চিকিৎসাবিদ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ‘এই গবেষণাটি আমাদের জন্য বড় একটি দিগন্ত উন্মোচন করে দিচ্ছে। আগে এই ওষুধটি ব্লাডক্যান্সার, অ্যানিমিয়াসহ আরো যেসব কারণে প্লাটিলেট কমে যায়—শুধু সেসব চিকিৎসায় ব্যবহার হতো। আমরা এটাকে ডেঙ্গু চিকিৎসায় কতটা কার্যকর, তা দেখার চেষ্টা করতে গিয়েই প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছি।’

ডা. কবীর জানান, এই গবেষণায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম নুরুন নবী এবং একই বিভাগের আরেক শিক্ষক ড. সজীব চক্রবর্তী। ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড তাঁদের সহায়তা করেছে। তিনি জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বেটার লাইফ হাসপাতাল ও এএমজেড হাসপাতালে এই গবেষণা চলে। এখানকার রোগীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে দুটি দলকে বিভিন্ন মাত্রায় এলট্রোম্বোপ্যাগ (ট্যাবলেট) দেওয়া হয়। আরেকটি গ্রুপকে দেওয়া হয় প্রচলিত চিকিৎসা। সব রোগীকে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। গবেষণার বিষয়ে ল্যানসেটের তথ্যে জানানো হয়, রোগীদের দুটি দলকে ২৫ ও ৫০ মিলিগ্রামের এলট্রোম্বোপ্যাগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২৫ মিলিগ্রামের ডোজ গ্রহণকারীদের বেশি নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। দুই দলেরই ৯১ শতাংশ রোগী যথাসময়ে রক্তে স্বাভাবিক প্লাটিলেটের মাত্রা ফিরে পেয়েছে।

মন্তব্য