kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শরীয়তপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুর ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ. ছালাম খান এ আদেশ দেন। একই মামলায় বাকি ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের পৃথক দুটি ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা-বাবাসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোহা. আবু তাহের গতকাল মামলা দুটির রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার চরঘরোয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ মুতাইতের ছেলে আব্দুল হক মুতাইত (৪২), দাইমী চরভয়রা গ্রামের মৃত মজিত মুতাইতের ছেলে মো. জাকির হোসেন মুতাইত (৩৩) ও গোসাইরহাট উপজেলার মধ্য কোদালপুর গ্রামের মৃত লুৎফর খবিরের ছেলে মো. মোর্শেদ উকিল (৫৬)। রায় ঘোষণার পর তাঁদের কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে শিশু ধর্ষণের দায়ে মানিকছড়ির মুসলিমপাড়ার মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৪) এবং রামগড়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তার মা-বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. ফিরোজ আহমেদ জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে শরীয়তপুরের ডামুড্যার চরভয়রা উকিলপাড়া গ্রামের খোকন উকিলের স্ত্রী হাওয়া বেগমকে (৪০) মোর্শেদ, আব্দুল হক ও জাকির ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরদিন নিহতের স্বামী খোকন উকিল বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত অক্টোবরে ৯ জনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। গতকাল আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এ মামলায় ৯ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। বাদীপক্ষ খালাসপ্রাপ্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে।’

এদিকে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির মুসলিমপাড়ায় গত বছরের জানুয়ারিতে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুর মা মামলা করলে ওই বছরের ৭ মার্চ পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। পরে আটজনের সাক্ষ্য নিয়ে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মোস্তাফিজুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরো দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। অন্যদিকে রামগড়ে কিশোরীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে তার মা ও বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেন তার চাচা। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ মা-বাবার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। এ মামলায়ও আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মা-বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মন্তব্য