kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাইবার ক্রাইমের শিকার নারী

মোবাইল ফোন চুরি হলেই সর্বনাশ

► সিআইডির সাইবার সেন্টারে দিনে ১২০০ অভিযোগ
► পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন পেজে দুই দিনে ৬৯১ অভিযোগ
► সতর্ক থাকার পরামর্শ পুলিশের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২২ বছরের সুদর্শন তরুণ ইয়াসির মোহাম্মদ রাতুল। নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া রাতুল ছিলেন সেলসম্যান। তবে পোশাকে-চলনে আভিজাত্য দেখিয়ে ধনী পরিবারের মেয়েদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন তিনি। এরপর বিশ্বস্ততা অর্জন করে জড়িয়ে পড়তেন অন্তরঙ্গ সম্পর্কে। বিশেষ মুহূর্তের ছবি সেই প্রেমিকার মোবাইল ফোনেই ধারণ করতেন রাতুল। এরপর কৌশলে প্রেমিকার ফোনের ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের আইডিগুলো দখলে নিতেন। একপর্যায়ে ফোনটিও চুরি করতেন। এরপর ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন টাকা। চুরি করা ফোন বিক্রির আগে বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব নিজের কাছে রেখে দিতেন। ভুক্তভোগী এক তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর বাংলামোটর থেকে রাতুলকে গ্রেপ্তারের পর সাইবার অপরাধের শিকার হাজারো নারীর চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রতিদিন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে গড়ে কমপক্ষে এক হাজার ২০০ অভিযোগ জমা পড়ছে। মোবাইল ফোন, ফেসবুক পেজে বা সরাসরি করা অভিযোগের বেশির ভাগই করছেন নারীরা। সেখানে নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। নারীদের সাইবার নিরাপত্তা দিতে গত ১৭ নভেম্বর থেকে পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডাব্লিউ) নামে ফেসবুক পেজ চালু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। মাত্র দুদিনে সেখানে ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি, ফেসবুক আইডি ব্যবহার, ফেসবুক আইডি হ্যাক করা ও হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের ৬৯১টি অভিযোগ জমা পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাইবার অপরাধের নতুন হাতিয়ার হিসেবে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ। ফোন থেকে ফাইল মুছে ফেললেও তা অনেক সময় ‘রিস্টোর’ করে তথ্য ফিরিয়ে আনা যায়। আবার আইডির নিয়ন্ত্রণও সহজে নেওয়া যায় মোবাইল ফোনের কারণে। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকে জড়িয়ে পড়ছে নতুন ধরনের সাইবার অপরাধে। এ রকম প্রেক্ষাপটে মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগীদের দ্রুত পুলিশের সাইবার শাখায় অভিযোগ দিতেও অনুরোধ করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সাইবার পুলিশ সেন্টারের ফেসবুক পেজে ১৭ হাজার ৭০৩টি অভিযোগ এসেছে। ফোনে অভিযোগ করেছেন ৩৮ হাজার ৬১০ ভুক্তভোগী। ফোনেই সমাধান হয়েছে ১২ হাজার ৫৬০টি অভিযোগের। বাকিগুলো নিয়ে কাজ চলছে। বেশির ভাগ অভিযোগই নারীদের যৌন হয়রানির। এর মধ্যে আছে বিদ্বেষ ছড়ানো, ছবি কেটে অশালীন ছবিতে বসানো, তরুণীদের যৌন হয়রানির হুমকি, ফেসবুক আইডি হ্যাক করে আজেবাজে পোস্ট ইত্যাদি। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণা, গুজব ও অনলাইন পণ্য কেনা নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ আছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সিআইডি ও সাইবার অপরাধ তদন্তকারীরা। তাঁরা বলছেন, ফোন সব সময় হাই সিকিউরিটি লক করে রাখতে হবে। পাশাপাশি ফোনে সামাজিক মাধ্যম ব্যাবহার শেষে লগ আউট করতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে ব্যক্তিগত ফোনসহ বিভিন্ন যোগাযোগ কোনোভাবেই যেন দ্বিতীয় ব্যক্তির হাতে যেতে না পারে।

সিআইডির সাইবার পুলিশের সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, ‘সাইবার পুলিশ সেন্টারের মোবাইল ফোন, ফেসবুক পেজে বা সরাসরি দিনে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ অভিযোগ পড়ে। কিছু কিছু অভিযোগ আমরা ফোনেই সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করি। কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি পরামর্শ দিয়ে পরে সেটা নিয়ে কাজ করি।’ 

পুলিশ সদরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘৫২টি তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের জন্য অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাকি ৪৬৯টি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট) রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘যৌন হয়রানির অভিযোগই সবচেয়ে বেশি। একেকটি ঘটনার পেছনে আমরা দিনের পর দিন লেগে থাকি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা