kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

কবি ও অধ্যাপক হিমেল বরকত চলে গেলেন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কবি ও অধ্যাপক হিমেল বরকত চলে গেলেন

‘নৈকট্যের কাছে গিয়ে দেখি—ছায়া পড়ে আছে, তুমি নেই...’ নিজের কবিতার পঙক্তি সত্য করে ছায়াটুকু ফেলে অকালে অনন্তলোকে চলে গেলেন কবি ও অধ্যাপক হিমেল বরকত। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার ভোরের দিকে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের এই অধ্যাপক।

হিমেল বরকত সত্তরের প্রখ্যাত কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ছোট ভাই। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক সাজ্জাদুল ইসলাম (কবি সুমন সাজ্জাদ) বলেন, গত শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছিলেন হিমেল বরকত। এ সময় তাঁর ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়। পরে তাঁকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে (বারডেম) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

গতকাল সকালে হিমেল বরকতের মরদেহ ধানমণ্ডিতে তাঁর বোনের বাসায় নেওয়া হয়। এরপর বাদ জোহর সেখানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসের টেনিস গ্রাউন্ডে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার মিঠেখালীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

হিমেল বরকতের অকালমৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, হিমেল বরকতের মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি হিমেল বরকতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

হিমেল বরকতের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘চোখে ও চৌদিকে’, ‘দশমাতৃক দৃশ্যাবলি’ ও ‘বৈশ্ববিদ্যালয়’। তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘আদিবাসী কাব্যসমগ্র’, ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ ও ‘প্রাসঙ্গিক পাঠ’। এ ছাড়া ‘প্রান্তস্বর’ ও ‘প্রান্তভাবনা’ নামে কবির দুটি উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে। সম্প্রতি তিনি বাংলা পথ-কবিতা বিষয়ক একটি গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা