kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পুষ্টি চাল প্রক্রিয়াকরণ

কালো তালিকার ব্যক্তি অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে আবার পেল কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষ পুষ্টি চাল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল খাদ্য অধিদপ্তর। ওই অভিযোগে এরপর ওই ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হন এবং কারাবাস করেন। কিন্তু কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি কৌশলে অন্য দুই উপজেলা থেকে ভিন্ন দুই প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে আবারও পুষ্টি চাল কার্যক্রমে তালিকাভুক্ত হয়েছেন একই দপ্তর থেকে। এতে খাদ্য বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা ও একাধিক ব্যবসায়ী জানান, একই ব্যক্তির নামে একই ব্যবসার চারটি প্রতিষ্ঠান থাকলে তার মধ্যে একটির অপরাধের কারণে ওই মালিক কালো তালিকাভুক্ত হলে তাঁর মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোরও কালোতালিকাভুক্ত হওয়ার কথা। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো কাজের সুযোগ দিলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কারণ সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক একজনই।

খাদ্য অধিদপ্তরের যেই পরিচালক ওই ব্যবসায়ীকে নতুন কাজের জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন, সেই সরবরাহ, বণ্টন ও বিপণন বিভাগের পরিচালক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য অনেকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তাঁর বিভাগের উপপরিচালক মো. হারুন অর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দপ্তর থেকে খুব একটা কিছু করার থাকে না। কাকে তালিকাভুক্ত করবে না করবে সেটা আঞ্চলিক পর্যায় থেকে যাচাই-বাছাই করে ঢাকায় পাঠানো হয়। ফলে এখান থেকে ধরা মুশকিল যে কালো তালিকাভুক্ত কেউ তালিকায় ঢুকে পড়েছে কি না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটে মেঘনা অটোরাইস মিল থেকে গত ২৬ এপ্রিল ৫৭০ বস্তা ১০ টাকা দরের ওএমএসের পুষ্টি চাল কালোবাজারির মাধ্যমে বিক্রির জন্য জকিগঞ্জে পাঠানো হয়। মেঘনা অটো রাইসমিলের মালিক শফিকুল ইসলাম বিক্রির জন্য ওই চাল জকিগঞ্জের কালীগঞ্জ বাজারের একটি গুদামে পাঠান। চোরাই পথে ওই চাল খালাস করার সময় জনতা হাতেনাতে ধরে ফেলে। ওই ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা হয়। পুলিশ আরো কয়েকজনের সঙ্গে শফিকুলকেও গ্রেপ্তার করে।

পরবর্তী সময়ে কয়েক ধাপের তদন্তে ওই ঘটনায় শফিকুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় খাদ্য বিভাগ থেকে গত ২০ আগস্ট মেঘনা অটো রাইসমিলের মালিক শফিকুল ইসলামকে কালো তালিকাভুক্ত করে পুষ্টি চাল বিতরণ কার্যক্রম থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।

এদিকে শফিকুল কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরের তৎপরতা চালিয়ে তাঁর অন্য দুই প্রতিষ্ঠান সুনামগঞ্জের ছাতকের রহমান অটো রাইসমিল ও সিলেটের শেখের হাটের এম এ আহাদ অটো রাইসমিলকে পুষ্টি চাল মিশ্রণ মিলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করায়।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরে পরিচয় জেনেই সংযোগ কেটে দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা