kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সহায়ক হবে সমুদ্র অর্থনীতি’

আইডিইবির সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সহায়ক হবে সমুদ্র অর্থনীতি’

গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আলোচনাসভা আয়োজন করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

গণপ্রকৌশল দিবস ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘নীল অর্থনীতি এনে দেবে সমৃদ্ধি’ শীর্ষক আলোচনা ও সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ও বিশেষ অতিথি শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আইডিইবি প্রাঙ্গণে পায়রা অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড়িয়ে সুবর্ণ জয়ন্তীর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। পরে আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেলপথমন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রী। স্বাগত বক্তব্য দেন আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান।

বিকেলে ‘নীল অর্থনীতি এনে দেবে সমৃদ্ধি’ শীর্ষক আলোচনাসভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ৫০ বছরে আইডিইবির জাতীয় প্রেক্ষাপটে প্রশংসনীয় কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘দেশের টেকসই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণে আইডিইবি যে গঠনমূলক সুপারিশ উপস্থাপন করেছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সমগ্র দেশকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

রেলপথমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর পথনির্দেশনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র বিজয়ের পর সমুদ্রসম্পদের বিষয়টি জাতির সামনে চলে আসে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সমুদ্র অর্থনীতি আগামী দিনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি অনুধাবন করে আইডিইবির প্রতিষ্ঠা দিবসের প্রতিপাদ্য নীল অর্থনীতি এনে দেবে সমৃদ্ধি নির্ধারণ করায় মন্ত্রী আইডিইবিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিপাদ্যের আলোকে বছরব্যাপী কর্মসূচি নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, নীল অর্থনীতির বীজ বঙ্গবন্ধু রোপণ করে গেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালে সংসদে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের আইন পাস করেন। তাঁর দেখানো পথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই সমুদ্রসম্পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বদ্বীপ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে যে গতি ও দেশপ্রেম ধারণ করে কাজ করছেন, এর সুফল পেতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদেরও একই পথ অনুসরণ করতে হবে। জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এই পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে আইডিইবির ভূমিকা রয়েছে।

বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা একসঙ্গে চলে। বঙ্গবন্ধু শুধু স্বাধীন মানচিত্র দিয়ে যাননি, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে গণমানুষের মুক্তি ত্বরান্বিত করার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনার বীজ বপন করে গেছেন। ১৯৭৪ সালে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম আইন পাস করেছেন। তাঁর দেখানো পথে জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত সমুদ্র অধিকার সনদে স্বাক্ষর করেন এবং ২০১১ সালে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দেশের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যাকবোন হিসেবে কাজ করছেন। সরকার যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রকৌশলীদের গুরুত্ব অপরিসীম। আইডিইবি স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালন করছে, যা প্রশংসনীয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। এতে সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে হিসেবে মৎস্য আহরণ, মৎস্য চাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, জাহাজ চলাচল ও ব্যবস্থাপনা, বন্দর ও সামুদ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সহায়ক পরিষেবা, সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তি, পণ্য, খনিজ পদার্থ, নবায়নযোগ্য শক্তি, সামুদ্রিক পর্যটন ও অবকাশ, স্থাপনা নির্মাণ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, শিক্ষা ও গবেষণা চিহ্নিত করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা